খুলনা অফিস
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১১:৩৭ এএম
খুলনা শহরের শিববাড়ি মোড়ের ফুটপাতে গরিবের ফ্রি বুফে থেকে খাবার নিচ্ছেন শ্রমজীবী মানুষ। প্রবা ফটো
দুপুর ২টা। খুলনা শহরের শিববাড়ি মোড়ে দাঁড়িয়ে আছেন রিকশাচালক ইয়ামিন মোল্লা। মুখে অবাক ভাব- ফুটপাতের ওপর প্লেটে সাজানো ভাত, ডাল, সবজি আর ডিম। সামনে দাঁড়িয়ে আছেন তরুণ-তরুণীরা, কারও হাতে গ্লাভস, কারও মুখে মাস্ক। দৃশ্যটা যেন কোনো দামি হোটেলের বুফের।
প্রথমে ইয়ামিন ভেবেছিলেন, অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার দিচ্ছে। কিন্তু গরম ভাত মুখে দিতেই তার চোখেমুখে ফুটে উঠল তৃপ্তি। তিনি বললেন, ‘ফ্রি হুইনে খাইলাম। খুব ভালো লাগতেছে।’
এ আয়োজনের নাম গরিবের ফ্রি বুফে। আয়োজন করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ফুড ব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থা। প্রতি রবিবার এখানে শ্রমজীবী, পথবাসী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই ব্যতিক্রমী খাবারের আয়োজন করা হয়। গত রবিবারও প্রায় ১৭০ জন মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন।
সংগঠনটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির মেঘ বলেন, ‘অনেক দিন ধরে স্বপ্ন ছিল। সিনেমা বা নাটকে আমরা দেখি হোটেলের বুফে- ঝকঝকে প্লেট, সাজানো খাবার, অতিথিদের সম্মান। কিন্তু আমাদের চারপাশের রিকশাচালক, দিনমজুর কিংবা ফুটপাতের মানুষদের তো এমন সুযোগ নেই। একদিনের জন্য হলেও তারা যেন সেই পরিবেশে খেতে পারেন, তাই আয়োজন করেছি।’
সরকারি সুন্দরবন কলেজের শিক্ষার্থী নাহিদ হাসান জানান, ‘আমরা নিজেরা বাজার করেছি, বাবুর্চী দিয়ে রান্না করিয়েছি। চেষ্টা করেছি মান বজায় রাখতে। যেন সত্যিই কোনো হোটেলের মতো হয়। খরচের জোগান দিয়েছেন সংগঠনের দাতা ও স্বেচ্ছাসেবীরা।’
শাহরিয়ার কবির মেঘ জানান, অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে আপাতত সপ্তাহে একদিনই আয়োজন করতে পারছি। কিন্তু ইচ্ছা আছে ভবিষ্যতে প্রতিদিনই যেন মানুষজন এমনভাবে খেতে পারেন।
খুলনা নগরীতে দুস্থদের জন্য নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করে আলোচনায় এসেছে ফুডব্যাংকিং খুলনা কল্যাণ সংস্থা। সংগঠনটির যাত্রা শুরু হয় বিয়েসহ পারিবারিক অনুষ্ঠানে বেঁচে যাওয়া খাবার সংগ্রহ করে দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণের মাধ্যমে। তাদের অস্থায়ী কার্যালয় নগরীর ফারাজীপাড়া এলাকায় চালু করেন বিশেষ উদ্যোগ ‘গরিবের মেহমানখানা’। পরবর্তীতে এটি স্থানান্তরিত হয় খুলনা রেলস্টেশন এলাকায়। বর্তমানে প্রতি বুধবার সেখানে প্রায় ১৬০ জন মানুষ বিনামূল্যে খাবার পান।
সম্প্রতি সংগঠনটি শুরু করেছে নতুন উদ্যোগ গরিবের বুফে, যার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষরা খাবারের পসরা থেকে নিজেদের পছন্দমতো খাবার নিয়ে খেতে পারছেন।