ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১১:২৩ এএম
পরিত্যক্ত ভবনটি সংস্কারের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৌলভীবাজার বক্ষব্যাধি ক্লিনিক। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
মৌলভীবাজার বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ফিরে পেয়েছে প্রাণ। দীর্ঘদিন ধরে এটি প্রায় পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। ইতোমধ্যে ক্লিনিকের ভবনগুলো সংস্কার করা হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি সমস্যাও দূর হয়েছে। চিকিৎসক সংকটও নেই। বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যসেবা উন্নতি হওয়ায় জেলার রোগীরা সুচিকিৎসার জন্য ছুটে আসছেন। তবে এতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়ে গেছে। তা পূরণের দাবি করছেন জেলাবাসী।
জানা যায়, ৫৭ বছর আগে মৌলভীবাজার এলাকায় যক্ষ্মা রোগীর চিকিৎসার জন্য এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। জেলা শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি এলাকা বর্ষিজোড়ায় তিন একর জমির ওপর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর কার্যক্রম শুরুর পর থেকে নানা সমস্যা বাসা বাধে। এক বছর আগেও এতে ছিল স্রেফ একজন চিকিৎসক। তিনি বেশিরভাগ সময় হাজিরও থাকতেন না। এ অবস্থায় রোগীদের চিকিৎসা ও ব্যবস্থাপত্র লিখে দিতেন টেকনোলজিস্টরা। এখানে ফার্মাসিস্ট না থাকায় একজন রেডিওগ্রাফার দায়িত্ব পালন করতেন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী কেউ না থাকায় এর দৈন্যদশা প্রকট হয়ে ওঠে। এর ডিজিটাল এক্স-রে মেশিনটি বহু আগে নষ্ট হয়ে পড়েছিল। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০-৭০ রোগী এসে সঠিক সুচিকিৎসা না পেয়ে মন খারাপ করে চলে যান।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের সমস্যা সুরাহার অনুরোধ করা হলেও গ্রাহ্য করা হয়নি। এটি থেকে যায় অভিভাবকহীন।
তবে বর্তমানে এর চিত্র অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের ভবন সংস্কারসহ চিকিৎসক ঘাটতি যতটা সম্ভব দূর করা হয়েছে। ফলে রোগীরা এখন সুচিকিৎসা পাচ্ছেন। এর কর্মরত জুনিয়র কলসানট্যান্টের সঙ্গে পদায়ন করা হয়েছে একজন মেডিকেল কর্মকর্তা।
এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করে রোগীদের পরীক্ষায় ব্যবহৃত হচ্ছে। জেলায় একমাত্র রেডিওগ্রাফার এখন বক্ষব্যাধি হাসপাতালেই কর্মরত। তিনি সপ্তাহের তিন দিন এখানে দায়িত্ব পালন করেন। বাকি দিনগুলোয় তিনি কুলাউড়া ও জুড়ীতে কাজ করেন।
সরেজমিনে মৌলভীবাজার বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে গেলে জেলার কুলাউড়ার জয়পাশা গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আমিরুল ইসলাম বলেন, দুই বছর আগে আমি এখানে এসেছিলাম। কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একজন আমাকে ওষুধ লিখে দিয়েছিলেন। আমার কোনো উপকার হয়নি। অনেক দূর থেকে আসাটাই বিফল হয়েছিল। পরে সিলেটে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এখন শুনছি ভালো ডাক্তার এসেছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই তবে চিকিৎসা করা হয়। তাই আবার এখানে এসেছি। দুই বছর আগে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের চারপাশে জঙ্গল দেখেছিলাম। ভবনগুলো ছিল ভাঙাচোরা। এখন সুন্দর পরিবেশ দেখছি। আশা করা যায় ভালো চিকিৎসা পাওয়া যাবে।
কমলগঞ্জের আলেপুর থেকে আসা শফিক মিয়া বলেন, এখানে আগে চিকিৎসা পাওয়া যেত না। ডাক্তার ১১টার দিকে এসে ১টা বাজলেই চলে যেতেন। এবার দেখছি ডাক্তাররা আগে আগে আসেন, যানও পরে। আমরা খুশি।
বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের জুনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. পার্লী দাশ বলেন, আমাদের এখানে গত এক বছর আগেও অনেক সমস্যা ছিল। বর্তমানে তার অনেকটাই কেটে গেছে। একজন মেডিকেল কর্মকর্তাকে এখানে দেওয়া হয়েছে। আমরা দুইজন রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছি। তবে যদি একজন বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ দেওয়া হয়, তবে রোগীরা সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা পাবেন।
মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, আমি এ জেলায় যোগ দেওয়ার পর বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের উন্নয়নে কাজ শুরু করি। এ ক্লিনিকটির ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন নষ্ট ছিল। অথচ বুকের চিকিৎসায় এক্স-রে অতিজরুরি। আমি ঢাকা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে এক্স-রে মেশিনটি মেরামত করিয়েছি। এখন রোগীদের ডিজিটাল এক্স-রে করা হয়। রোগীরা সুচিকিৎসা পাচ্ছেন।