সিলেটের ভোলাগঞ্জ
সিলেট অফিস
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১০:২২ এএম
আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৩ এএম
ফাইল ফটো
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সাদা পাথর লুটের সঙ্গে জড়িত ৪২ জনকে চিহ্নিত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগ নেতাও রয়েছেন। এ ঘটনায় খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের কর্তব্যে অবহেলার তথ্যও পেয়েছে দুদক। এদিকে পাথর লুটপাটের ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি। গতকাল বুধবার দুপুরে প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দাখিল করা হয় বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক পদ্মাসন সিংহ। প্রতিবেদনে কী কী বিষয় উঠে এসেছে, তা জানাননি জেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা।
পাথর লুট নিয়ে সমালোচনার মুখে গত ১২ আগস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ মাহবুব মুরাদ। এই কমিটিতে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগেই আনুষ্ঠানিক বিদায় নেন শের মাহবুব মুরাদ।
কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ থেকে ১০ লাখ ঘনফুট পাথর লুট হয়েছে। এর মধ্যে সাদা পাথর উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ ঘনফুট। অন্যান্য পাথর লুট হয়েছে প্রায় ৪০ লাখ ঘনফুট। লুটের ঘটনাটি ধরা পড়ে গত ১০ আগস্ট। এরপর ১৩ আগস্ট দুদক অভিযান চালায়। পাথর লুটের সঙ্গে জড়িত ৪২ জনকে চিহ্নিত করেছে দুদক। এর মধ্যে বিএনপির ২০ নেতাকর্মী রয়েছেন। তারা হলেন, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) সাহাব উদ্দিন, সদস্য হাজি কামাল (পাথর ব্যবসায়ী), কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান লাল মিয়া, উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ওরফে দুদু, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক রুবেল আহমেদ বাহার, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মুসতাকিন আহমদ ফরহাদ, উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. দুলাল মিয়া ওরফে দুলা, যুগ্ম আহ্বায়ক রজন মিয়া, যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন, সাজন মিয়া, উপজেলা বিএনপির কর্মী জাকির হোসেন, সদস্য মোজাফর আলী, মানিক মিয়া, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মকসুদ আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ওরফে শাহপরান, কোষাধ্যক্ষ (বহিষ্কৃত) শাহ আলম ওরফে স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাশেম ও পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্স।
এই তালিকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীর নাম রয়েছে। তারা হলেনÑ জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী বিলাল মিয়া, শাহাবুদ্দিন, গিয়াস উদ্দিন, কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল ওদুদ আলফু, কর্মী মনির মিয়া, হাবিল মিয়া ও সাইদুর রহমান। এই তালিকায় সিলেট মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. ফখরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীনের নাম রয়েছে। এ ছাড়া সিলেট জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রধান সমন্বয়কারী নাজিম উদ্দিন ও মহানগর প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাদেক মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম চৌধুরীর নামও রয়েছে।
দুদুকের অনুসন্ধানে সাদা পাথর লুটের সঙ্গে আরও যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেনÑ ভোলাগঞ্জের আনর আলী, উসমান খাঁ, ইকবাল হোসেন আরিফ, দেলোয়ার হোসেন জীবন, আরজান মিয়া, মো. জাকির, আলী আকবর, আলী আব্বাস, মো. জুয়েল, আলমগীর আলম ও মুকাররিম আহমেদ।
দুদক মহাপরিচালক ও মুখপাত্র মো. আক্তার হোসেন বলেন, এনফোর্সমেন্ট টিম পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দ্রুত কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করবে। এর ভিত্তিতে কমিশন পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বলেন, পাথর লুটেরাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা বাহিনীসহ বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে তদন্তকাজ চলছে। পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরিতে একটু সময় দেওয়া প্রয়োজন, যাতে নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হয়।