কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ২০:১৬ পিএম
নদীর জায়গা দখল করে সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের নির্মাণ করা বাংলোবাড়িসহ সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। বুধবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১২টায় ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কাটুরাইল এলাকায় অবস্থিত বাংলোবাড়ি গুঁড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। ঢাকা জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ’র যৌথ উদ্যোগে শুরু হওয়া দুইদিনের উচ্ছেদ অভিযানের প্রথমদিনেই বাংলোবাড়িটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক জনতা ভিড় জমায়।
বিআইডব্লিউটিএ’র তথ্য অনুযায়ী, নদীর জায়গা ভরাট করে এক একরেরও বেশি এলাকা দখল করে বাংলোবাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি সম্পূর্ণভাবে ভাঙার কাজ চলমান।
এর আগে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন বিভাগ) মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, হাইকোর্টের নির্দেশনার আলোকে এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী পোস্তগোলা সেতু থেকে ধোপাতিয়া বা কাটুরাইল খেয়াঘাট পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার চর মিরেরবাগ, নয়াটোলা, দোলেশ্বর, হাজারীবাগ ও কাটুরাইল মৌজার নদীতীরবর্তী এলাকা রয়েছে। এসব স্থানে পর্যায়ক্রমে সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও ভরাট অপসারণ করা হবে। এজন্য ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে ঘটনাস্থলে।
জানা যায়, এ উচ্ছেদ কার্যক্রম হাইকোর্টে করা রিট পিটিশনের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ। নদীর জমি রক্ষার স্বার্থে এবং পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে নদী তীরবর্তী দখলদারদের উচ্ছেদ করার জন্য বিগত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।
বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তারা জানান, শুধু বুড়িগঙ্গা নয়, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদীও অবৈধ দখলমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। নদীর সীমানা পিলার স্থাপন, ভরাট জমি পুনরুদ্ধার এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণÑ সবকিছুই একই প্রক্রিয়ার অংশ।
ঢাকা নদী বন্দরের যুগ্ম
পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু
নদীর সীমানা পিলার রক্ষা ও নদীর জায়গা দখলমুক্ত রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যত
শক্তিশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানই হোক, নদীর জমি কেউ ব্যক্তিগতভাবে ভোগ করতে পারবে না। আমরা সকল প্রক্রিয়া শেষ করে
অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করব।