ফুলগাজী (ফেনী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৬ পিএম
৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী অঞ্চল বদরপুরে বিএডিসির বাস্তবায়িত স্লুইস গেটটি কোনো কাজে আসছে না। কৃষকদের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত স্লুইস গেট এখন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে ব্যয়বহুল এই সুইস গেট নির্মাণ করেন মেসার্স রিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মুন্সীরহাট ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ভিপি নুরুল আমিন। ওই বছর ২০ জানুয়ারি উদ্বোধনের সময়ে দেখা যায় স্লুইস গেটটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণের ফলে ৫/৬ শত হেক্টর উঁচু জমিতে পানি সেচ করা দুরূহ হয়ে পড়ে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, স্লুইস গেট একাকী অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ৫ বছর শেষ হলেও ভারত থেকে নেমে আসা তেতৈয়া ছড়ায় নির্মিত স্লুইস গেটের দুইপাশের বাঁধের মাটি কেটে নিয়েছে মাটিদস্যুরা। কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসি কর্তৃপক্ষের আর সাড়া পাওয়া যায়নি। এভাবেই সীমান্তবর্তী বদরপুরের মাঠেই সরকারের অর্ধকোটি টাকারও বেশি অর্থ গচ্ছা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, সেসময় গেট বন্ধ করা হলেও এতে পানি ধরে রাখা যাচ্ছিল না। গেটের নিচ দিয়ে পানি বের হয়ে যেত। অন্যদিকে, খালের পাড়ের উচ্চতার তুলনায় নিচুতে গেটটি নির্মাণের ফলে আবাদী জমির বড় অংশেই সেচ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ফলে কৃষকদের মাঝে আশা সঞ্চার হলেও বর্তমানে তা হতাশায় রূপ নিয়েছে।
বদরপুর তেতৈয়া ছড়ার আশপাশের স্থানীয় কৃষক আবদুল কুদ্দুস স্থানীয় ভাষায় বলেন, ‘নুরুল আমিন চেয়ারম্যান আন্ডা টেয়াদি কাম কইচ্ছে, চাইর হইসার উপকারো অয়নো।'
কৃষক তোফায়েল আহাম্মদ জানান, ২০২১ সালে এই কাম কইচ্ছে, প্রতিবাদ কইচ্ছে আর চেয়ারম্যান আঁর মামতো ভাইরে মাইচ্ছে।
কৃষক এয়ার আহমেদ বলেন, দুই ফসলের আশায় নির্মিত সুইস গেটের কারণে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এখানে আর ফসল করা যাবে না।
স্থানীয় কৃষক আলম জানান, হানির লাই উপকার কইচ্ছে হানি কিন্তু নাই, ২/৩ বার বরাদ্দ আইনছে, অনগা সুইস গেট খাড়াই রইছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী এই সুইসগেট পুনঃনির্মাণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ফেনী বিএডিসির উপপরিচালক মো. আলি মিয়াজী বলেন, বিষয়টি প্রকৌশলের, আমার নয়।
দপ্তরটির সহকারী প্রকৌশলী কামরুল হাসানকে বারবার ফোন করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
প্রসঙ্গত; মৌসুমে পানি ধরে রেখে চাষাবাদ অব্যাহত রাখতে তেতৈয়া খালের বদরপুর এলাকায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে সুইস গেট নির্মাণ করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। ক্ষুদ্র সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে তেতৈয়া খালের ওপর অপরিকল্পিতভাবে বড় আকারের হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার (সুইস গেট) নির্মাণ করা হয়।