পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
চিংড়ি (বাগদা) উৎপাদন ও দেশের অর্থনীতিতে অবদান এবং নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখায় স্বর্ণপদক পেয়েছেন পাইকগাছার গোলাম কিবরিয়া রিপন। তিনি রয়্যাল ফিস কালচার ও রয়্যাল ফিস ট্রেডিং নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের মালিক। ‘জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫’-এ উপলক্ষে গত সোমবার তিনি এ স্বর্ণপদকে ভূষিত হন। রিপন একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, দানবীর, সমাজসেবক ও তরুণ উদ্যোক্তা।
ব্যবসায়ী রিপনের এ অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, দেশের মৎস্য খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা। তার নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও উদ্ভাবনী চিন্তা দেখিয়ে দিয়েছে, তরুণরাই পারে কৃষি ও মৎস্যকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিশ্বমানে পৌঁছে দিতে।
বিশ্ববরেণ্য ও নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুসের হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তটিই ছিল জাতির জন্য গর্বের, তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার এবং সর্বোপরি খুলনা ও পাইকগাছার মানুষের জন্য বিরল সম্মানের। দানবীর রিপনের এই অর্জন প্রমাণ করে, সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিশ্রম থাকলে যেকোনো ক্ষেত্রেই সাফল্য অর্জন সম্ভব।
তিনি শুধু চিংড়ি উৎপাদন করেননি, বরং একটি টেকসই ও রপ্তানিমুখী মডেল তৈরি করেছেন, যা অন্যদের জন্য পথপ্রদর্শক।

তার উদ্যোগে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বেড়েছে, নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার হয়েছে। এই পদক তার স্বপ্নের স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতের আরও বড় অর্জনের পূর্বাভাস। সফল ব্যবসায়ী রিপনের মতো তরুণরাও আমাদের দেখিয়ে দেয়, গ্রামই হতে পারে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু। তার সাফল্য দেশের তরুণদের আহ্বান জানায়, তরুণদের পাশে দাঁড়াও, তাদের স্বপ্নে বিনিয়োগ করো। মৎস্যখাতে প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের যে সম্ভাবনা রয়েছে, রিপন তা বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।
এই অর্জন শুধু একটি পদক নয়, এটি একটি বার্তা, বাংলাদেশ প্রস্তুত, তরুণরাই চালকের আসনে। তার মতো উদ্যোক্তারা আমাদের অর্থনীতিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে পারে।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে তার স্বর্ণপদক সকলকে মনে করিয়ে দেয়, সাফল্য আসে সাহস ও শ্রমের সমন্বয়ে। আর তরুণদের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে হলে প্রয়োজন সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ ও নীতিগত সহায়তা। যা গোলাম কিবরিয়া রিপন দেখিয়ে দিয়েছেন যে, স্বপ্ন দেখো, কাজ করো। ‘সাফল্য তোমার অপেক্ষায়, তোমরাও পারবে।’
উল্লেখ্য সোমবার সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছ থেকে এ পদক গ্রহণ করেন গোলাম কিবরিয়া রিপন। পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় তার রয়েছে রয়েছে সাত শতাধিক বিঘার চিংড়ী ঘের। যেখানে তিনি চাষ করেছেন বাগদা চিংড়ী এছাড়াও গলদা, হরিনা, চাকা চিংড়ীসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।
এদিকে গোলাম কিবরিয়া রিপন জাতীয় স্বর্ণপদক পাওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছেন পাইকগাছা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংবাদিকবৃন্দসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।