নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০১ পিএম
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সিএনজিচালিত এক অটোরিকশা চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়। বুধবার (২০ আগস্ট) সকালে আদমপুর-দুল্লী সড়কের দুল্লী সেতুর নিচ থেকে এ মরদেহ ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে স্থানীয় থানা পুলিশ।
নিহত অটোরিকশা চালক হলেন নূরুজ্জামান (৩৫)। তিনি নওপাড়া ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত মোগল চানের ছেলে। এদিকে ঘটনাটি জানাজানির পরপরই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও তাদের বিচার দাবিতে কেন্দুয়া পৌরশহরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন স্থানীয় চালকরা।
এ ঘটনায় কান্দিউড়া ইউনিয়নের রাঘবপুর গ্রামের অলি মিয়া (২৫) নামে আহত এক যুবককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আহত ওই ব্যক্তিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশ হেফাজতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ধারণা, অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিতেই চালককে হত্যা করেছে যাত্রীবেশী দুর্বৃত্তরা।
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে নিজের অটোরিকশাটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন নুরুজ্জামান। পরে রাত ১১টার পর কেন্দুয়া পৌরসভার জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন সিএনজি স্টেশন থেকে তার অটোরিকশায় তিনজন পুরুষ ও একজন নারী যাত্রী ওঠেন। তারা আদমপুর-দুল্লী সড়ক দিয়ে গন্তব্যে রওনা হন। এরপর থেকে নুরুজ্জামানের খোঁজ মিলছিল না। তার মুঠোফোনটিও বন্ধ ছিল।
পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে কোথাও পাননি। পরে রাত তিনটার দিকে দুল্লী সেতুর পাশে তার রক্তমাখা অটোরিকশাটি দেখতে পান স্থানীয়রা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অটোরিকশাটি উদ্ধার করে এবং রক্তের দাগ দেখে সেতুর নিচ থেকে রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে তা উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে স্থানীয় কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিতে যাত্রীবেশে দুর্বৃত্তরা নুরুজ্জামানের গাড়িতে ওঠে। পরে তাকে হত্যা করা হয়। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অটোরিকশাটি রক্তমাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, আহত যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।