কক্সবাজার প্রতিবেদেক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৫৮ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরিতে পুনর্বহাল দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এ সময় কয়েকজন আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধিসহ অন্তত ১৫ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর থেকে উখিয়া থানা প্রাঙ্গণ ঘিরে রেখেছেন আন্দোলনকারীরা।
বুধবার (২০ আগস্ট) সকাল নয়টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের উখিয়া উপজেলা সদর স্টেশনের ফলিয়াপাড়া রাস্তা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় আহত ও হেফাজতে নেওয়া আন্দোলনকারীদের সবার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্র নিশ্চিত করেছে, আটকদের মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার অন্যতম সাবেক সমন্বয়ক নেত্রী জিনিয়া শারমিন রিয়া রয়েছেন।
কয়েকজন চাকরিচ্যুত শিক্ষক জানিয়েছেন, সকালে উখিয়া সদর স্টেশনের ফলিয়াপাড়া রাস্তার মোড়ে ৪০/৫০ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন। তারা কোনো ধরনের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন। একপর্যায়ে পুলিশ এসে আন্দোলনকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দেয়। পুলিশের নির্দেশ অমান্য করতে থাকলে আন্দোলনকারীদের লাঠিপেটা করা হয়। ঘটনায় ৭/৮ জন আন্দোলনকারী শিক্ষক আহত হন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ১০/১৫ জন আন্দোলনকারীকে আটক করে নিয়ে যায়। আহতদের উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আন্দোলনকারীরা বলেন, যাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে তাদের ছেড়ে দিতে হবে। এ ছাড়াও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকে নড়ব না।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী বলেন, 'সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সেখানে কয়েকজনকে হেফাজতে নিয়েছি। তাদের বিষয়ে যাচাই-বাচাই শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আগের দিন চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল।’
এর আগে চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা একই দাবিতে সোমবার সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা উখিয়ার কোর্টবাজার স্টেশন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। এতে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে। প্রায় ৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়।
জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ ও সেভ দ্য চিলড্রেন গত ৩ জুন কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারকে (আরআরআরসি) লেখা এক চিঠিতে উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিও পরিচালিত সব শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে। এতে চাকরিচ্যুত হন ১২৫০ শিক্ষক। তবে স্থানীয়দের চাকরিচ্যুত করা হলেও ক্যাম্পগুলোতে কর্মরত কোনো রোহিঙ্গাকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি।