হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১৫:২৩ পিএম
সড়ক দেবে ধসে পড়ছে বুড়ভোগাই নদীতে। প্রবা ফটো
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার জুগলী ইউনিয়নের কালাপাগলা বাজার থেকে জয়মঙ্গল এলাকায় নতুন পাকা সড়কটি নির্মাণের তিন মাসের মাথায় ধসে পড়তে শুরু করেছে পাশের বুড়িভোগাই নদীতে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং সঠিকভাবে প্যালাসাইডিং (সড়কের পাশের অংশের সুরক্ষা কাঠামো) না করায় সড়কের এই দুরবস্থা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ময়মনসিংহ অঞ্চল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন (এমআরআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়। কাজটি পায় ‘সারোয়ার জাহান এন্টারপ্রাইজ’, যারা চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে জুন মাসে শেষ করে।
বুধবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়ে সড়কের অংশ দেবে ধসে গেছে, পাশাপাশি অন্য কয়েক জায়গায় ইট-সুরকি বের হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। রিকশা, ভ্যান, সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা সবসময় থেকেই যাচ্ছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়কের বক্স ভরাটে বালুর বদলে মাটি ব্যবহার করা হয়েছে, ইট-সুরকিও ছিল নিম্নমানের। এ বিষেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও কোনো লাভ হয়নি। তড়িঘড়ি করে ৬ মাসের মধ্যে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কার্পেটিংসহ মেরামতকাজ শেষ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। ধস দেখা দেওয়া জায়গা মূলত পুকুর ও বুড়িভোগাই নদীর পাড়–সংলগ্ন এলাকা। এই জায়গাগুলোতে ঠিকমতো মাটির ব্যবহার না করায় ও দুর্বল প্যালাসাইডিংয়ের কারণে এমন ধসের সৃষ্টি হয়। দ্রুত জায়গা তিনটি মেরামত না করা হলে ধস ও ভাঙনের বিস্তৃতি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয় আব্বাস আলী জানান, ‘স্বাধীনতার পর এইবারই প্রথম এই সড়কটি পাকা অইলো। অইলে কি অইবো! কাজের শুরু থাইকা অনিয়মের শেষ নাই। সড়কের গর্তে বালুর বদলে দিছে মাডি (মাটি) আমারা প্রতিবাদ কইরা কোন লাভ অইনাই। কয়েকদিনের মধ্যে খেতের মাডি আইন্না গর্ত বইড়া কাজ শেষ কইরা গেল।’
স্থানীয় এক কলেজ শিক্ষার্থী আমিরুল বলেন, ‘এই সড়কের কাজের অনিয়েমের কারণে এমন হয়েছে। সড়কে গাইডওয়ালও সঠিক ভাবে করে নাই। আমারা দ্রুত এর সংস্কার চাই।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য দুর্ঘটনাতেই প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। অনিয়ম শুরু হয়েছিল সড়ক পাকাকরণের শুরু থেকেই।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক সোহেল রানা দাবি করেন, ভারী বৃষ্টির কারণে ধস দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, এখানে ব্লক না দিলে আবার ধসে পড়বে। যদিও ব্লক দেওয়ার কাজ আমাদের দায়িত্ব না, তারপরও বৃষ্টির মৌসুম শেষে মেরামত করে দেব।
এ বিষয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা প্রকৌশলী আবু সালেহ মো. ওয়াহেদুল হক বলেন, ‘ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শন ও তদন্ত করা হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’