প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৫ ১০:০৭ এএম
মাওলানা ভাসানী সেতু/প্রবা ফটো
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ বুধবার (২০ আগস্ট) উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রত্যাশিত ‘মাওলানা ভাসানী তিস্তা সেতু’। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজার থেকে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলা সদর সড়কে তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুর দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৯০ মিটার।
আজ দুপুর ১২টায় সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী।
বাংলাদেশ সরকার (জিওবি), সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ওফিড) অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯২৫ কোটি টাকা। ১৪৯০ মিটার দৈর্ঘ এবং ৯.৬০ মিটার প্রস্থের সেতুটির লেন সংখ্যা ২টি এবং মোট স্প্যান সংখ্যা ৩১টি। এটি একটি প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার সেতু।
সেতুটি চালু হলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে স্বল্প সময় ও খরচে শিল্প ও কৃষিজাত পণ্য পরিবহন সহজ হবে, ছোট ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মসংস্থানের পথ তৈরি হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, পর্যটন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে সেতুটি।
ঢাকাসহ দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে কুড়িগ্রাম জেলার যোগাযোগ সহজ হবে এবং ভূরুঙ্গামারী স্থলবন্দরের সঙ্গে রাজধানীর দূরত্ব ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত কমে আসবে।
তিন দফা তারিখ পরিবর্তনের পর অবশেষে সেতুটি উদ্বোধন হলেও কুড়িগ্রামের চিলমারী অংশের সংযোগ সড়কের কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ওই কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় তা বাড়িয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংযোগ সড়ক সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেতুটি উদ্বোধনের সুফল তাৎক্ষণিকভাবে ভোগ করতে পারছেন না তারা।
চলতি দায়িত্বে থাকা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুলফিকার আলী জানান, সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলেও চিলমারী অংশের সড়কের কাজ চলমান। ৫ হাজার ২৩০ মিটার সড়কের মধ্যে ২ হাজার ১৫০ মিটার কার্পেটিং শেষ হয়েছে, আরও ২ হাজার ৬৫ মিটার কার্পেটিংয়ের জন্য প্রস্তুত রয়েছে। বাকি ৭০০ মিটার এলাকায় জমি সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় কাজ আটকে আছে।