রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৫ ১৬:১১ পিএম
আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে রাজশাহীর হাইটেক পার্ক গত বছর। যেখানে প্রযুক্তিতে দক্ষ ১৫ হাজার জনবলের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়। তবে, গত বছর আগস্ট মাসে দফায় দফায় লুটপাটের শিকার হয় এই পার্কটির নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো। কয়েকটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয় বিভিন্ন কারণে।
তবে, সম্ভাবনা থাকায় নতুন করে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ঝুঁকতে শুরু করেছে এই প্রতিষ্ঠানটিতে। এরই মধ্যে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক এক একর জায়গা লিজ নিয়েছে। এছাড়াও ব্র্যাক ও প্রাণ গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে এগিয়ে এসেছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলে কর্মসংস্থান হবে প্রায় আইসিটি সেক্টরে দক্ষ দুই হাজার জনবলের।
১২ তলা সিলিকন টাওয়ার বিশিষ্ট রাজশাহী হাইটেক পার্কে বরাদ্দযোগ্য মোট রেডি স্পেসের পরিমাণ ৮৪ হাজার ৬৬১ বর্গফুট। এই টাওয়ারের দশম তলায় ১২,৬১২ বর্গফুট স্পেস বরাদ্দ নেওয়ার জন্য চুক্তি সই করেছে চালডাল কোম্পানি। বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চালডাল সেখানে তাদের আইটি বিজনেস, বিশেষ করে আইটি সেন্টার ও কল সেন্টার গড়ে তুলবে, যেখানে প্রায় ৭০০ জনের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া নবম তলায় একই পরিমাণ স্পেস বরাদ্দ নেওয়ার জন্য চুক্তি সই করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। তাদের বরাদ্দ প্রক্রিয়াও চলছে। প্রতিষ্ঠানটি সেখানে কল সেন্টার ও আইটি সেন্টার গড়ে তুলবে।
স্টারলিংকের ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশের বন্ডস্টাইন টেকনোলজিস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর শাহরুখ ইসলাম জানান, তাদের এপ্রিলে প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরপর জুলাই পর্যন্ত সময় লেগেছে গ্রাউন্ড স্টেশন নির্মাণে। ইতোমধ্যেই এটি সম্পন্ন হয়েছে। এই গ্রাউন্ড স্টেশনের মাধ্যমে স্টারলিংক সারাদেশে তাদের নেটওয়ার্কিং সেবা প্রদান করবে।
এদিকে, বর্তমানে সিলিকন টাওয়ারের ১৮টি ব্লকে ১৬টি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে, এর মধ্যে ১১টি ইতোমধ্যে চালু হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি, পার্শ্ববর্তী আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারে ৭টি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।
রাজশাহী হাইটেক পার্কে কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী নগরীর ডিসি অফিসের পশ্চিমে পদ্মা নদীর তীরে ৩১ একর জমির ওপর ৩৪৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে রাজশাহী হাইটেক পার্ক। ২০২৪ সালের ৩০ জুন 'হাই-টেক পার্ক রাজশাহী স্থাপন প্রকল্প'-এর মেয়াদ শেষ হয় এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ পার্কটির দায়িত্ব গ্রহণ করে।
গত বছরের ৫ আগস্টের আগে রাজশাহী হাইটেক পার্কে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এর মধ্যে স্টার সিনেপ্লেক্স, নেত্র সিস্টেমস লিমিটেড ও বিজনেস অটোমেশন উল্লেখযোগ্য। তবে ৫ আগস্টের ব্যাপক লুটপাটের ঘটনার পর স্টার সিনেপ্লেক্স এখনও বন্ধ রয়েছে। ওই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতির শিকার হয়। স্টার সিনেপ্লেক্স বন্ধ থাকলেও অন্যান্য কোম্পানি ক্ষতি কাটিয়ে আবারও পুরোদমে কার্যক্রম শুরু করেছে।
রাজশাহী হাইটেক পার্কের ডেপুটি ডিরেক্টর মাহফুজুল কবির জানান, ‘রাজশাহী হাইটেক পার্কের সিলিকন টাওয়ারের সামনে ৮টি প্লট রয়েছে। এছাড়া দুইটি বিল্ডিংয়ে স্পেস বরাদ্দ চলমান রয়েছে। দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান আমাদের স্পেস এবং নির্ধারিত প্লট লিজ নিচ্ছে। আমরা আশা করছি, গত বছরের আগস্টের ধাক্কা সামলে সামনে এগিয়ে যাব। হাইটেক পার্কটি পুরোদমে চালু হওয়াটা নির্ভর করছে বিনিয়োগকারীদের ওপর এবং এটি সম্ভব হলে এখানে ১৫ সহস্রাধিক দক্ষ জনবলের কর্মসংস্থান সম্ভব হবে।’