রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ১২:২০ পিএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে ফুটপাত দখল, অবৈধ গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে যানজট যেন নিত্য সঙ্গী। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে ফুটপাত দখল, অবৈধ গাড়ি পার্কিং ও যানজটের কবলে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। আঞ্চলিক মহাসড়ক ও বাজারের অলিগলি দখল করে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ দোকান ও অবৈধ স্ট্যান্ড। আঞ্চলিক মহাসড়কসহ বাজার এলাকার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা, ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা ও অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে দুর্ভোগে পড়ছেন সাধারণ পথচারী, যাত্রী ও চালকরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা সদরের পৌর পয়েন্ট, টিঅ্যান্ডটি মোড়, মাদ্রাসা পয়েন্ট ও পুরনো মাছ বাজার এলাকায় ফুটপাতের ওপর সারি সারি ভ্রাম্যমাণ দোকান বসানো হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে সিএনজি অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও রিকশা। যান চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় যানবাহনগুলোকে। অন্যদিকে ফুটপাতে পা ফেলার জায়গা নেই। অবৈধভাবে দখল নিয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, ক্রেতারা ফুটপাতে দাঁড়িয়েই পণ্য কিনছেন। এ ছাড়া যে যার মতো করে সড়কে গাড়ি পার্কিং ও মেরামতের কাজ করছেন।
পথচারী শামীম আহমদ বলেন, রাস্তার ওপরে দোকান, সড়কে দাঁড়িয়ে ইজিবাইক-রিকশা, সিএনজিতে যাত্রী ওঠানামা সব মিলিয়ে একটা বিশৃঙ্খল অবস্থা। একটু পরপরই লেগে যায় যানজট। জগন্নাথপুর বাজারের বাসিন্দা জামাল উদ্দিন বেলাল বলেন, মহাসড়কসহ বাজারের সব অলিগলির ফুটপাত এখন অবৈধ দখলদারদের হাতে। হেঁটে চলার কোনো উপায় নেই। প্রশাসনের যেন কোনো দায় নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক দোকানি জানান, তারা ভ্রাম্যমাণভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতি রবি ও বুধবার বাজার ইজারাদারদের ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন। এমনকি কেউ কেউ যে মার্কেট বা দোকানের সামনে ফুটপাত দখল করেছেন, তারা মালিকদের প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে থাকেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর বাজার ইজারাদার মকবুল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা সড়কে দোকান বসাতে বলিনি। বারবার সরিয়ে নেওয়ার কথা বলছি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।
তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, এসব দখলদার বছরের পর বছর ধরে দখল করে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
গরিব চিলড্রেন এডুকেশন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি আলহাজ আব্দুল কাদির বলেন, জগন্নাথপুরের এ করুণ অবস্থা আসলে প্রশাসনিক অবহেলার ফসল। প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টরা যেন কিছুই দেখছেন না। এই অব্যবস্থাপনার কাঁটা যতদিন না উপড়ে ফেলা হচ্ছে, ততদিন জনগণের যন্ত্রণা চলতেই থাকবে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ বলেন, ইজারাদারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা এসব দোকান সরিয়ে নেবে। খুব শিগগিরই অভিযান চালিয়ে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলা অবৈধ ব্যবসা, অসচেতন যানবাহন চালক এবং প্রশাসনের সীমিত পদক্ষেপের কারণে জগন্নাথপুর পৌর শহরের পরিবহন ও চলাচল ব্যবস্থা এখন এক বিশৃঙ্খল অবস্থায়। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার দাবি জানিয়েছেন।