সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৫ ১০:৪৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
অবশেষে সিলেটের ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর লুটে জড়িতদের তালিকা তৈরি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রাথমিক তালিকায় উঠে এসেছে ১০৩ জনের নাম। এটি এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপরই লুটেরাদের ধরতে শুরু হবে অভিযান। এমনটাই জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ।
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, শিগগির দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে যেসব অভিযুক্ত শনাক্ত হচ্ছেন, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, পাথর লুটেরাদের তালিকায় পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন রাজনৈতিক দলের নেতা ও এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। পাশাপাশি রয়েছেন লুটপাটে ব্যবহৃত বারকি নৌকার মালিক এবং পাথর বেচাকেনায় সম্পৃক্ত ব্যক্তিরাও।
সাদা পাথর লুটের ঘটনায় গত শনিবার ভোরে গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচ জনের নাম ওই তালিকায় আছে কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি উজায়ের আল মাহমুদ আদনান। তিনি জানান, পাথর লুটের ঘটনায় গত শুক্রবার রাতে অজ্ঞাতনামা দেড় হাজার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করেন খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হাবীব। এতে খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২-এর ধারা ৪ (২) (ঞ) এবং খনি ও খনিজ সম্পদ বিধিমালা, ২০১২-এর বিধি ৯৩ (১) লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়ে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে পরবর্তী সময়ে গেজেটভুক্ত ওই কোয়ারি থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা কোটি কোটি টাকার পাথর লুট করেছে। তবে আসামিদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের নাকের ডগায় হরিলুট হয়েছে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর। নানা মহলের সমালোচনার পর এই পাথর আগের স্থানে ফেরানো হচ্ছে। তবে কী পরিমাণ সাদা পাথর লুট হয়েছে, সে তথ্য নেই প্রশাসনের কাছে।
লুটেরাদের ছোবলে ক্ষত-বিক্ষত হয়েছে ‘সাদা পাথর’। ক্ষত মুছতে সাদা পাথরে পানি স্প্রে করছেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আবু সালেহ মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, প্রশাসনের নির্দেশে গর্ত ভরাটকারী শ্রমিকের গরম বালু থেকে প্রশান্তি ও বালু নিচের পাথর ভাসানোর জন্য পানি স্প্রে করা হচ্ছে।
সাদা পাথর প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পর্যটন কেন্দ্র। ২০১৭ সালে পাহাড়ি ঢলে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ পাথরমহালের ধলাই নদীর উৎসমুখে পাঁচ একর জায়গাজুড়ে জমা হয় পাথর। ঢলের তোড়ে সেখানে ১৯৯০ সালেও একবার পাথর জমা হয়েছিল। ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ি অঞ্চল লুংলংপুঞ্জি ও শিলংয়ের চেরাপুঞ্জি। সেখানকার ঝরনা থেকে সারা বছর নদের পানি প্রবহমান থাকে। বৃষ্টিবহুল চেরাপুঞ্জির পাদদেশ থেকে বর্ষায় ঢলের পানির সঙ্গে পাহাড় থেকে পাথরখণ্ড এপারে নেমে আসে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের মার্চ মাস থেকে মধ্য জুলাই পর্যন্ত মোট ১৩ দফা পাহাড়ি ঢল নামে। উপজেলা প্রশাসনের হিসাবে, ঢলের তোড়ে ওপার থেকে পাথরের অন্তত ১৩টি আস্তরণ পড়ে। পাঁচ একর জায়গার ওপরে অন্তত ২০ ফুট পুরু স্তর জমে। তখন স্থানীয় প্রশাসন পাথরগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেয়। ২০১৭ সাল থেকে এটি সাদা পাথর পর্যটন এলাকা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।