সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ২২:২৩ পিএম
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে ওসমানীনগর উপজেলা। সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীর সন্ধানের দাবিতে ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে রবিবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের তাজপুর ও কদমতলায় বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে দুপুর থেকে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে কদমতলায় জমায়েত হতে থাকেন। বিকাল চারটার দিকে লোকে-লোকারণ্য হয়ে পড়ে মহাসড়ক।
তীব্র তাপদাহ উপক্ষো করে মিছিল শুরু হলে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এ সময় সিলেট-২ আসনে বিএনপির আগামী দিনের সংসদ সদস্য হিসেবে ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদি লুনার নামে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে।
ওসমানীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসটিএম ফখর উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ মিছবাহর উপস্থাপনায় পথসভায় বক্তব্য রাখেন, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও ওসমানীনগর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ ময়নুল হক চৌধুরী, অবিভক্ত বালাগঞ্জ উপজেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল জিলু।
বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভায় বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, শ্রমিকদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় বক্তারা বলেন, এম ইলিয়াস আলী শুধু সিলেট নয়, সারাদেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় নেতা ছিলেন। তাকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে। কিন্তু ১৩ বছরেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি, যা একটি স্বাধীন দেশে গভীর উদ্বেগের বিষয়। তারা দ্রুত এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান প্রদানের জোর দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন দলের তৃণমূল থেকে উঠে আসা সাহসী কণ্ঠস্বর। তিনি জনগণের পক্ষে, অবিচার ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। তার মতো নেতার অনুপস্থিতি শুধু বিএনপির জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই ক্ষতি।
এদিকে কর্মসূচিকে সফল করতে গত কয়েকদিন ধরে উপজেলায় চালানো হয় বিরামহীন প্রচারণা। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও নানা রঙিন প্রচারপত্র বিলি করা হয়। বাজারের প্রবেশপথ ও মোড়ে মোড়ে শোভা পায় দলীয় পতাকা ও ব্যানার। প্রচারযন্ত্রে মিছিলের স্লোগান এবং ইলিয়াস আলীর নাম উচ্চারণে চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে।
জানা গেছে, সিলেট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নিখোঁজ হন ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল গভীর রাতে। ঢাকার বনানী থেকে ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীসহ এম ইলিয়াস আলী রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। তার গাড়িটি মহাখালী রেলগেটের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ইলিয়াস আলী ও তাঁর চালকের কোনো সন্ধান মেলেনি আজও। সিলেটের কোটি জনতার মানুষের এই নেতার সন্ধান দিতে না পারায় এবার সিলেট-২ আসনের মানুষও ক্ষোভে প্রকাশ করছে।
ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ঘটনার পর বিএনপি অভিযোগ করে বিগত সরকার ইলিয়াস আলীকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে গুম করেছে। এ ঘটনায় সারাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভ, হরতাল ও আন্দোলন হয়। আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কিন্তু এক দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।
এম ইলিয়াস আলী একজন জাতীয় রাজনীতিবিদ এবং জাতীয় সংসদের (২০০১-২০০৬) একজন সাবেক সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপির) সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ২০১০ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি বিভিন্ন কর্মসূচিতে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।