বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৫০ পিএম
আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৫২ পিএম
ঢাকা-খুলনা বিভাগকে বিভক্ত করা ফরিদপুর ও মাগুরা জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত মধুমতী নদীর বেশ কয়েক জায়গায় সম্প্রতি দেখা মিলেছে বিশালাকারের মিঠা পানির একটি কুমির। এতে দু’পাড়ের বসবাসকারী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
গত কয়েকদিন ধরে মধুমতী নদীর বিভিন্ন স্থানে ১২/১৫ ফুট লম্বা বিশালাকৃতির কুমিরকে ভাসতে দেখেছে স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীদের তৎক্ষণাৎ ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে দুপাড়ের বসবাসকারী সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে মাইকিংসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
জানা যায়, শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে কয়েকজন ক্ষেতমজুর ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চরবর্ণী এলাকায় কুমিরটিকে দেখে। দুপুরের দিকে মাগুরার মহম্মদপুরের এলাংখালী শেখ হাসিনা সেতু এলাকায় কুমিরটিকে সাঁতার কাটতে দেখে স্থানীয়রা। এ সময় ধারণ করা ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে তা ছড়িয়ে ভাইরাল হয়ে যায়। ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নে মধুমতী নদীতে কুমিরটি দেখা গেছে বলে দাবি করেছেন অনেকে। তবে বিভিন্ন স্থানে দেখা যাওয়া বিশালাকার এই কুমির একটি নাকি একাধিক তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রশাসন ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, অল্পকিছু সময়ের জন্য কুমিরটি সেতু সংলগ্ন এলাকায় ভেসে থাকার সময় স্থানীয় এক যুবক সেটি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওতে দেখা যায়, মধুমতী নদীর সেতুর ওপর থেকে প্রায় এক মিনিট সাত সেকেন্ডের ভিডিওতে কুমিরটিকে স্পষ্টভাবে দেখা যায়। দূর থেকে ছবি দেখে যেটুকু ধারণা করা যায় এটি একটি প্রাপ্তবয়স্ক কুমির। লম্বায় অন্তত ১৫ ফুট এবং বেশ স্বাস্থ্যবান। বর্তমানে নদীর তীরবর্তী এলাকায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে মৎস্যজীবীরা নৌকা নিয়ে জাল ফেলতে নদীতে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
বিগত অর্ধশত বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে এ অঞ্চলে কুমির দেখা গিয়েছিল, সে কুমিরটি জেলেদের জালে আটকা পড়লে তারা সেটা বনবিভাগের কাছে হস্তান্তর করেন। এ ব্যাপার বর্ণীচর গ্রামের বাসিন্দা আশরাফুজ্জামান মিলন বলেন, মধুমতী নদীতে কুমির দেখা গেছে এটা সত্য। প্রথমে ভেবেছিলাম গুজব, পরে আমি বিভিন্নভাবে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি আসলেই কুমির দেখা গেছে ।এপার পশ্চিম বর্ণীচর ও এলাংখালী ঘাট এলাকায় সেতুর পাশে অনেকেই নিজ চোখে কুমির দেখেছে। ফেসবুকেও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
বোয়ালমারীর ময়না ইউপি চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক মৃধা বলেন, লোকমুখে শুনেছি। নদীর আশপাশের মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানতে পেরেছি। জনসাধারণের সতর্কতার জন্য মাইকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হবে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনুর আক্তার বলেন, সরাসরি দেখা হয়নি। তবে লোকমুখে শুনেছি এবং ভিডিওতে দেখেছি। এ ঘটনার পর উপজেলার মধুমতী নদীর তীরবর্তী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের জনসচেতনতার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতার জন্য মাইকিং করা হয়েছে।