মধ্যাঞ্চল অফিস
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ২১:৩৩ পিএম
জোরপূর্বক জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মো. নিজাম উদ্দিন (৬০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা ইউনিয়নের শৈলজানি গ্রামে।
সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, মো. নিজাম উদ্দিন জমির সঠিক মালিকানার কোনো দলিল দেখাতে না পারলেও প্রায়ই তার আত্মীয়স্বজনের জমি দখলের চেষ্টা করেন। দখলে ব্যর্থ হয়ে তিনি শৈলজানি গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে আবদুল হাই (৫৫) মেনু মিয়া (৫০), আব্দুল হাইয়ের ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৮), গিয়াস উদ্দিনের ছেলে শফিকুলের (২৮) বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, উক্ত জমি তারা বৈধভাবে ওয়ারিশ সূত্রে ও ক্রয়কৃত হিসেবে ভোগদখল করে আসছেন। পাকুন্দিয়া উপজেলার কোদালিয়া মৌজার আরএস ১০৩৬ ও ১১০২ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১৩৮৯ ও ১৪৫৭ নম্বর দাগ সংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত।
তারা জানান, এই জমির প্রকৃত মালিক অলি মামুদের দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানগণÑ মৃত নেয়ামত উল্লাহ, কেয়ামত উল্লাহ ও মৃত কয়েদ বানু। কেয়ামত উল্লাহর কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় তার ভাই নেয়ামত উল্লাহ এবং বোন কয়েদ বানুর ওয়ারিশরা জমির দাবিদার হন।
শফিকুল ইসলাম জানান, তিনি ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। পাকুন্দিয়া এসিল্যান্ড তদন্ত করে জমিটি শফিকুল ইসলামের ওয়ারিশান সূত্রে প্রাপ্ত বলে প্রতিবেদন দেন। বর্তমানে মামলাটি নথিজাত রয়েছে।
এ বিষয়ে মেনু মিয়া বলেন, ‘নিজাম আমাদের ৩৫ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা জমি থেকে আমাদের উচ্ছেদ করতে চায়। অথচ আমরা এ জায়গা সঠিক দলিলপত্র দেখে কিনেছি বরং তার কোনো বৈধ দলিল নেই। এ ব্যাপারটি নিষ্পত্তির স্থানীয়ভাবে কয়েকবার বসা হলেও নিজাম কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।’
শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নিজামের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি মামলায় যে দাগ ও দলিল নম্বর উল্লেখ করেছে, তা বাস্তবে এই জমির সঙ্গে মেলে না, তার দাবিকৃত জমি এটি নয়। ৬৪৬৮ নম্বর দলিল ও এর বায়া দলিল বিশ্লেষণ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। নিজাম উদ্দিন মফিজ উদ্দিনের কাছ থেকে জমি কিনেছে বলে উল্লেখ করেছে। মফিজ উদ্দিন জরিনা খাতুনের কাছ থেকে হেবা সূত্রে জমি পান। হেবা দলিল-৭১৯৭, ১৮ নভেম্বর ১৯৭০ খ্রি.।’
স্থানীয় বাসিন্দা আম্বিয়া খাতুন জানান, তার স্বামী গিয়াস উদ্দিন ১৯৮৭ সালে সোয়া ৫ শতক জমি আব্দুল হাই, মেনু মিয়া ও বজলুল করিমের কাছে বিক্রি করেন। তিনি বলেন, আমার পরিবার বহুদিন ধরে এ জায়গায় নেই, নারায়ণগঞ্জ থাকতাম। ছেলে, মেয়ে এখনও জীবিকার তাগিদে নারায়ণগঞ্জ থাকে। স্বামীর বিক্রয় করা জমি নিয়ে এখন অন্যরা হয়রানি করছে।
অভিযুক্ত নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘আমি আমার সৎ ভাই মফিজ উদ্দিনের কাছ থেকে বিভিন্ন দলিলে জমি ক্রয় করেছি। এ বিষয়ে আমি আদালতে মামলা করেছি, এখন আদালতই সিদ্ধান্ত দেবেন।’
স্থানীয় দরবারি মোহাম্মদ রমজান আলী বলেন, ‘এ বিয়ে আমরা অবগত আছি, বিষয়টি নিয়ে আমরা পাঁচবার দরবার বসিয়েছি। কিন্তু কোনো সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।’