রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ)
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৩১ পিএম
আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৩১ পিএম
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত ও চারা ধান উৎপাদন শেষে শুরু হয়েছে রোপা-আমন ধানের চাষাবাদ। প্রবা ফটো
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় সময়মতো বীজতলা প্রস্তুত ও চারা ধান উৎপাদন শেষে শুরু হয়েছে রোপা-আমন ধানের চাষাবাদ। প্রতিবছর এ সময় বন্যার শঙ্কা থাকলেও এবার আশঙ্কা কাটিয়ে কৃষকেরা আশাবাদীভাবে আমন ধান রোপণে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি এবার আধুনিক রাইস ট্রান্সপ্লান্টার যন্ত্রের মাধ্যমে দ্রুত ও কম খরচে ধান রোপণ করতে দেখা গেছে অনেক কৃষককে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৪৯০ হেক্টর বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ৯ হাজার ৬১০ হেক্টর জমিতে রোপা-আমন ধান চাষের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৪ হাজার ৯৯৭ হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে, দুই সপ্তাহের মধ্যেই পুরো কাজ শেষ হবে। এ মৌসুমে আমন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ হাজার ১৭৬ দশমিক ৫ মেট্রিক টন এবং চাল ২৫ হাজার ৪৫১ মেট্রিক টন।
এবার সরকারি প্রণোদনার আওতায় ১ হাজার ৯৫০ জন কৃষককে সার ও বীজ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের অনেকে জানান, প্রণোদনা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তারা এবার বড় আকারে ধান রোপণ করেছেন।
মিরপুর ইউনিয়নের লতিয়ার পাড়া কৃষক শফু মিয়া বলেন, কৃষি খরচ বেশি হলেও ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করছি, আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে।
একই ইউনিয়নের আধুয়া গ্রামের আশরাফ মিয়া বলেন, সরকারি সার-বীজ সহায়তা পেয়ে তিনি ১০ বিঘা জমিতে ধান রোপণ করেছেন।
রানীগঞ্জ ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের কৃষক মুন্না মিয়া বলেন, ১৫ বিঘা জমিতে প্রথমবারের মতো রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ব্যবহার করেছি। এতে সময় ও খরচ দুটোই বাঁচছে।
পাইলগাঁও ইউনিয়নের মশাজান গ্রামের টিপু সুলতান বলেন, কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী জমিতে প্রতিবছর বন্যার শঙ্কা থাকে, তবুও তিনি ২৫ বিঘা জমিতে ধান রোপণ শুরু করেছেন।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কাওসার আহমেদ বলেন, বোরোর পর আমন ধান এ অঞ্চলের দ্বিতীয় জনপ্রিয় ফসল। গত বছর ৯ হাজার ৪০৬ হেক্টরে আমন চাষ হলেও এবার তা বেড়ে ৯ হাজার ৬১০ হেক্টরে পৌঁছেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি। এবার জনপ্রিয় জাত ব্রি-৯৩, ব্রি-৯৫, ব্রি-১০৩ ছাড়াও নতুন জাত ব্রি-১১০ প্রথমবারের মতো মাঠে চাষ করা হচ্ছে। কৃষকদের এ জাতের ধান চাষে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।