নওগাঁ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১৫:৪৬ পিএম
নওগাঁর মান্দা উপজেলার কসব ইউনিয়নের তালপাতিলা নামক স্থানে আত্রাই নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ওই এলাকায় প্রায় ১০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে তালপাতিলা গ্রামসহ আশপাশের চকবালু, চকরামপুরসহ কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অত্র এলাকার কয়েকশ পরিবার। বিস্তীর্ণ এলাকার রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয়রা বলছে, এই একইস্থানে গত বছর ভেঙে যায়। এরপর মাসখানেক আগে বেড়িবাঁধের এই অংশটুকু মেরামত করা হয়। কিন্তু নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আবার ভেঙে গেছে। বেড়িবাঁধ ভাঙার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শক করেছেন মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার জাহান সাথী। এ সময় তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়িবাঁধ মেরামতের আশ্বাস দেন।
এদিকে জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদী ও ছোট যমুনা নদীর তীরবর্তী মান্দা, আত্রাই ও রানীনগর উপজেলার বেশ কিছু এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আত্রাই ও রানীনগর উপজেলা বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলেও মান্দা উপজেলায় বেড়িবাঁধ ভেঙে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
এদিকে শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে দেওয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী আত্রাই নদীর মান্দা উপজেলার জোত বাজার পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ও আত্রাই রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপদ সীমার ৩১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও নওগাঁর ছোট যমুনা ও পুনর্ভবা নদীর পানি বিদসীমার নিচে থাকলেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওযায় মান্দা উপজেলার চকরামপুর, উত্তর চকরামপুর, কয়লাবাড়ী, জোকাহাট, দ্বারিয়াপুর, নুরুল্লাবাদ, পারনুরুল্লাবাদ ও তালপাতিলা এলাকার অন্তত ১০টি বেড়িবাঁধকে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এছাড়া, বন্যানিয়ন্ত্রণ মূলবাঁধের লক্ষ্মীরামপুর, আয়াপুর, পাঁজরভাঙ্গা, পলাশবাড়ী, মিঠাপুর, নিখিরাপাড়া ও গোয়ালমান্দাসহ অন্তত ২০টি পয়েন্টকে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে।
এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছেন। ইতোমধ্যে আত্রাই উপজেলার আত্রাই নদীর বাঁধের বেশ কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণস্থান মেরামত করা হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার পাল জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত না হলে জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং নদনদীর পানিও বৃদ্ধি কমে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন