খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১২:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
খুলনার রূপসা উপজেলায় কৃষি ব্যাংকের পূর্ব রূপসা শাখায় সংঘটিত ভল্ট ভাঙার ঘটনা ব্যাংক নিরাপত্তা ব্যবস্থার এক বড়োসড়ো দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) বিকেল থেকে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে দুর্বৃত্তরা ছয়টি তালা ভেঙে ভল্টে প্রবেশ করে প্রায় ১৬ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে এক নিরাপত্তাকর্মীর ডিউটি শেষ হলেও তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য আর কেউ উপস্থিত ছিলেন না। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে কোনো প্রহরী ছাড়াই ব্যাংক ফাঁকা পড়ে ছিল। আর এই সুযোগই কাজে লাগিয়েছে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা। তারা শুধু ভল্ট ভেঙেই টাকা লুট করেনি, বরং সিসিটিভি ক্যামেরাও কাপড় দিয়ে ঢেকে দিয়েছে- যা থেকে বোঝা যায়, ঘটনার পেছনে সুপরিকল্পিত ছক কাজ করেছে।
রূপসা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার মধ্যে লুটের ঘটনা ঘটেছে। ইতোমধ্যে ব্যাংক ও আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এ ঘটনায় জড়িত, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
শনিবার (১৬ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ব্যাংকের মূল গেটের তালা কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। ভেতরে বড় ধরনের ভাঙচুর না থাকলেও একে একে ছয়টি তালা ভেঙে দুর্বৃত্তরা ভল্টে প্রবেশ করে। এরপর টাকা লুট করার পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা কাপড়ে ঢেকে দেয়।
পুলিশ ইতোমধ্যে তিন নিরাপত্তাকর্মী- আবুল কাশেম, তরিকুল ও আফজালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে। খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তাদের মধ্যে কেউ সরাসরি জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম জানান, ভল্টে প্রায় ১৬ লাখ টাকা ছিল। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ব্যাংকের মতো নিরাপদ প্রতিষ্ঠান যদি পাহারাহীন থাকে, তবে সাধারণ মানুষের সঞ্চিত অর্থ কতটা সুরক্ষিত- এ প্রশ্ন সবার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে।
এ ঘটনা শুধু একটি শাখার লুট নয়, বরং ব্যাংক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা ও শৃঙ্খলার অভাবের প্রতিফলন। পর্যাপ্ত প্রহরী না থাকা, ছয়টি তালা ভাঙতে দীর্ঘ সময় লাগার কথা; এটি আকস্মিক ডাকাতি নয়, বরং সংগঠিত চক্রের কাজ বলে অনেকেরই ধারণা।