× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুলনা সিটি করপোরেশন

পরিকল্পনাহীন এক নগরী

খুলনা অফিস

প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪৬ এএম

খুলনা নগর ক্রমশ বড় হলেও সেভাবে বাড়ছে না সেবার মান। যানজট-জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থার অবনতি যেন নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

খুলনা নগর ক্রমশ বড় হলেও সেভাবে বাড়ছে না সেবার মান। যানজট-জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থার অবনতি যেন নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী। সম্প্রতি তোলা। প্রবা ফটো

খুলনা নগর ক্রমশ বাড়ছে। গড় উঠছে নতুন নতুন আবাসন। যেভাবে নগর বাড়ছে, সেভাবে নাগরিক সেবার মান বাড়ছে না। যানজট, জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নতি না হওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে। 

নগরবাসী চেয়েছিলেন খুলনা শহরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে। কিন্তু তাদের চাওয়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে না খুলনা সিটি করপোরেশন। নগরবাসী মনে করেন, তাদের সেবার মান কীভাবে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে গরজ নেই কর্তৃপক্ষের। যে স্বপ্ন তারা মনের মধ্যে লালন করেন, তা পূরণে সিটি করপোরেশন উদাসীন।

দিন যত সামনে যাচ্ছে, খুলনা নগরী ততই ছড়িয়ে পড়ছে। খুলনা সিটির (কেসিসি) আয়তন ৪৫.৬৫ বর্গকিলোমিটার থেকে ২০০৭ সালে আরও ৪০.১০ বর্গকিলোমিটার বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। সরকার তা অনুমোদন না দেওয়ায় পরিকল্পিত সম্প্রসারণ আটকে আছে। এরই মধ্যে গল্লামারি ব্রিজ পেরিয়ে বটিয়াঘাটা, আলুতলা, মুজগুন্নি, লবণচরা, রূপসা ঘেঁষা এলাকায় গড়ে উঠছে বহুতল ভবন ও আবাসিক প্লট। কিন্তু এসব স্থাপনা হচ্ছে কেডিএর (খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) অনুমতি ছাড়াই, যা আইনি সংকট এবং নগর পরিকল্পনায় জেঁকে বসেছে বিশৃঙ্খলা।

বটিয়াঘাটা এলাকার স্কুলশিক্ষক আজগর আলী বলেন, আমাদের এখানে অধিকাংশ রাস্তা কাঁচা। সড়কে বাতি নেই। বৃষ্টি হলেই রাস্তা ও ঘর ডুবে যায়। চলাচল প্রায় অসম্ভব। 

লবণচরা এলাকায় নতুন প্লট কেনা ইমতিয়াজ আলী বলেন, কেডিএ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় উপজেলা থেকে অনুমতি নিতে হয়েছে। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি এটি ঝামেলার কারণ হতে পারে।

মুজগুন্নীর নতুন আবাসিক এলাকার প্লট কেনা কামাল হোসেন বলেন, দেখতে পাচ্ছি বৃষ্টি হওয়ায় আমার প্লটসহ আশপাশে হাঁটুসমান পানি। এর পরও আমি জমি কিনে ফেলে রাখতে পারি না। অনুমতি ছাড়া বাড়ি করলে ঝামেলায় পড়তে হবে। অনুমতিবিহীন বাড়ি করলাম। কিন্তু কেডিএ তা ভেঙে দিল। তখন কী হবে?

সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকায় নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। নেই বর্জ্য সরনোর সুষ্ঠু ব্যবস্থা। রাস্তায় বিদ্যুৎ নেই। রাতের বেলা চলতে মানুষজনকে নানা দুর্ভোগে পড়তে হয়। যেখানে-সেখানে বর্জ্য স্তূপ হয়ে থাকায় তা থেকে দুর্গন্ধ বের হয়। বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ অভিযোগ করে বলেন, আমরা স্থানীয় সরকার বিভাগকে বারবার অনুরোধ করেছি। মাস্টারপ্ল্যানভুক্ত এলাকায় ঘরবাড়ি তৈরির অনুমতি না দেওয়ার। কিন্তু তারা অনুমতি দিচ্ছে। এতে যে নগরায়ণের প্রসার ঘটেছে, তাতে পরিকল্পনার ছাপ নেই; যা কিছু হচ্ছে তা অপরিকল্পিতভাবে।

অন্যদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগের এলজিইডির বটিয়াঘাটা প্রকৌশলী গৌতম কুমার বলেন, কেডিএ তাদের মাস্টারপ্ল্যানের গেজেটেড কপি দেখাতে পারেনি। আইন মেনেইি আমরা অনুমতি দিচ্ছি। 

কেসিসি পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবিরুল জব্বার বলেন, পরিকল্পনাবিহীন যেভাবে অবৈধভাবে বাড়িঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, তা সঠিক হচ্ছে না। খুলনা নগরীকে ফেলা হচ্ছে হুমকির মুখে। নতুন আবাসন এলকায় ড্রেনের ব্যবস্থা চালু করা যাবে না। ওয়াসা সংযোগ দেওয়া কঠিন হবে। কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাবেই নিয়ন্ত্রণহীন নগরায়ণ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাধারণ সম্পাদক ও নগর পরিকল্পনাবিদ আসিফ আহমেদ বলেন, খুলনা শহর দ্রুত বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ১৯৬১ সালের কেডিএ মাস্টারপ্ল্যানের ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ডিএপি) এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। কর্তৃত্বের অভাব, মনিটরিংয়ের দুর্বলতা ও জনবল সংকট নগর নৈরাজ্যের আবহাওয়া সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও বলেন, যদি অবস্থা না বদলায়, তবে সম্প্রসারিত এলাকায় পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ থেকে বঞ্চিত হতে হবে। বাড়বে জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি। যেকোনো দুর্যোগে জীবন রক্ষাকারী সেবা পৌঁছানো কঠিন হবে। এ ছাড়া অপরাধপ্রবণতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

বর্তমানে খুলনা সিটি করপোরেশন ও কেডিএ মিলিয়ে মাত্র ৪ জন পরিকল্পনাবিদ আছেন। ২০২০ সালের আগে কেসিসিতে কোনো পরিকল্পনাবিদ ছিল না। পেশাদার পরিকল্পনাবিদ বাদ দিয়ে অন্য পেশাজীবী নিয়োগের খবরও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেডিএ, কেসিসি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সমন্বয়ে জরুরি বৈঠক, ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ডিএপি) দ্রুত বাস্তবায়ন, অবৈধ ও অনুমতিবিহীন নির্মাণে কঠোর আইন প্রয়োগ, পর্যাপ্ত পরিকল্পনাবিদ নিয়োগ ও সক্ষমতা বাড়ানো এবং নাগরিকের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা