জয়পুরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:৪২ এএম
প্রতীকী ছবি
জয়পুরহাট জেলা শহরের সবুজনগর মহল্লার একটি বাসা থেকে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
ওই গৃহবধূর নাম ফারজানা আক্তার জুথি (২৬)। তিনি জেলার পাঁচবিবি পৌরসভার পোস্টঅফিসপাড়া এলাকার মো. জীবনের স্ত্রী এবং জেলা শহরের সাহেবপাড়া মহল্লার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে।
নিহত ফারজানা আক্তার জুথির ভাই মেজবা নাবিল বলেন, ‘আমার বোনের স্বামী অনেক আগে মারা যান। তার ছয় বছরের একটি সন্তান আছে। সে তার দাদার বাড়িতে থাকে। পরবর্তীতে জীবন নামের একটি ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক করে আট মাস আগে আপু বিয়ে করে। ওই ছেলের আরও একটি বউ আছে। আপুর এই বিয়ে পরিবার থেকে মেনে নেওয়া হয়নি। আজকে খবর পাই আমার বোন বাসার মধ্যে আছে, কিন্তু কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এসে দেখি দরজা লাগানো ছিল। পরে পুলিশ আসার পর দরজা খোলা হলে দেখি গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় আপুর মরদেহ ঝুলছিল।’
বাসা মালিক আবু হাসেম বলেন, ওই মেয়ে ও তার স্বামী জীবন প্রায় ছয় মাস আগে বাসা ভাড়া নেয়। আমার পরিবার তৃতীয় তলায় থাকে, আর ওরা দ্বিতীয় তলার উত্তরপাশের ইউনিটে থাকে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তার স্বামী এসে দরজায় ডাকাডাকি করে। কিন্তু ভেতর থেকে কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে আমার ছেলেকে জানায়। আমার ছেলেও ডাকাডাকি করে। পরে তার স্বামী চলে যায়। আজকে সন্ধ্যার দিকে আবারও তার স্বামী এসে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে পাশের একটি গাছে চড়ে জানালা দিয়ে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় জুথিকে ঝুলতে দেখে। পরে পুলিশকে জানানো হয়। এসময় লোকজনের ভিড় জমে। পুলিশ আসার পর ওই মেয়ের স্বামীকে আর দেখা যায়নি।
এ ব্যাপারে জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তামবিরুল ইসলাম বলেন, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। ওই মেয়ের স্বামীকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় আসলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।