সাজ্জাত লতিফ, সখীপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০২৫ ১১:১০ এএম
টাঙ্গাইলের সখীপুর বড়চওনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র কার্যালয়ের দুই পাশের জমি দখল করে নিয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। প্রবা ফটো
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় ছয়টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের বেশিরভাগই অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে দুটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কোনো স্থাপনাই নেই। চারটি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনটিতেই নেই চিকিৎসা কর্মকর্তা। স্থাপনাবিহীন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুই চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রেষণে আছেন অন্য কর্মস্থলে। চলমান উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোয় উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (সেকমো), প্রসূতি বিদ্যা ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা।
বড়চওনা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র কার্যালয়ের চরম বেহাল অবস্থা বিদ্যমান। স্থাপনা ও সেবা কার্যক্রম চালু থাকলেও তা মূলত পরিত্যক্ত। তবুও উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (সেকমো) ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে চলছে কেন্দ্রের সেবা কার্যক্রম। ওই স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৮০ শতাংশ জমিই অন্যদের বেদখলে। অবশিষ্ট জমিতে নেই কোনো সীমানা প্রাচীর।
আবাসিক ভবনটিও বসবাস অযোগ্য। চিকিৎসা কর্মকর্তা নেই ৮-১০ বছর। বৃহস্পতিবার উপজেলার বড়চওনা স্বাস্থ্য কেন্দ্র ঘুরে এসব তথ্যচিত্র পাওয়া যায়।
সরেজমিন বড়চওনা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ভবনটি ঘুরে দেখা যায়, সামনের অংশে কাদা ও আবর্জনার স্তূপ। পাশেই হাটের বর্জ্য ফেলা হয়। ফলে চারপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। টিনের ছাউনি মরিচা ধরে ফুটো, দেয়ালে ফাটল, দরজা-জানালা ভাঙা সব মিলিয়ে পরিবেশ একেবারেই অস্বাস্থ্যকর। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর পানি জমে কাগজপত্র ও আসবাব নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ ও পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। শৌচাগারটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। আবাসিক ভবনটিও এক যুগ ধরে বসবাস অযোগ্য। ভেতরে পোকামাকড়ে বাসা বেঁধেছে। আশপাশ ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে।
সদর উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা জামিনি আক্তার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। বড়চওনা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল কায়েস প্রেষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ঢাকায় কর্মরত। বহেড়াতৈল কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা মরিয়ম আক্তার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। স্থাপনাবিহীন যাদবপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা জান্নাত আরা জ্যোতি ঢাকার কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ও স্থাপনাবিহীন হাতিবান্ধা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা শামীমা আক্তার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া উপজেলার বাঘের বাড়ী স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা কর্মকর্তা শামসুল আলম নিজ কর্মস্থলেই কাজ করছেন।
সেবা নিতে আসা শরীফা বেগম নামে এক হাঁপানী রোগীর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, আমি প্রতিনিয়তই এ কেন্দ্রে সেবা নিতে আসি। কিন্তু ডাক্তার না থাকায় অন্য রোগের চিকিৎসার জন্য সখীপুর হাসপাতাল কিংবা দূরে কোথাও যেতে হয়। গরিব হওয়ায় অন্যত্র যাওয়ার সামর্থ্য নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা নূরুল ইসলাম বলেন, জমিটি উদ্ধার করে সীমানা প্রাচীর ও ভবন নির্মাণের দাবি আমাদের। তিনি অভিযোগ করেন, এ সেবা কেন্দ্রে গত ৮-১০ বছরে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা মেলেনি।
বড়চওনা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কর্মরত সেকমো আবদুল মালেক সিদ্দিকী বলেন, ডাক্তার ও অফিস সহায়ক না থাকায় তাদের কাজ ফার্মাসিস্ট ও আমাকেই করতে হচ্ছে। আবাসিক ভবন পরিত্যক্ত থাকায় ১২ কিলোমিটার দূরে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হচ্ছে। প্রতিদিন এ কেন্দ্রে ৮০ থেকে শতাধিক রোগী সেবা নিতে আসেন।
জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রেহানা পারভীন বলেন, জমিটি উদ্ধারে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থাপন করা হয়েছে। চিকিৎসা কর্মকর্তাদের সংযুক্তি বাতিল চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। সীমানা প্রাচীর নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আশা করছি, দ্রুতই বেশিরভাগ সমস্যার সমাধান হবে।
উপজেলা ইউএনও আবদুল্লাহ আল রনী বলেন, সম্প্রতি এ বিষয়ে জানতে পেরেছি। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জমিটি উদ্ধারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।