নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ২০:১৭ পিএম
আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ২০:৩১ পিএম
এক বছরেও অস্ত্র জমা দেয়নি নারায়ণগঞ্জের গডফাদার হিসেবে খ্যাত সাবেক এমপি শামীম ওসমান, তার ভাই সাবেক এমপি সেলিম ওসমান, শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন ও শ্যালক তানভীর আহম্মেদ টিটু। ওসমান পরিবারের সদস্যদের কাছে অন্তত আটটি আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এসব অস্ত্রগুলো ইতোমধ্যে অবৈধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর শামীম ওসমানের নামে পয়েন্ট ২২ বোরের রাইফেলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এর কয়েকদিন পর ২৬ অক্টোবর এনপিবি পিস্তলের লাইসেন্সও নেন তিনি। কিন্তু অন্তর্বতী সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে তিনি অস্ত্র দুটি জমা দেননি। শামীম ওসমানের ছেলে ইমতিনান ওসমান অয়ন তার শটগানটি জমা দেননি। তার শ্যালক ও বিসিবির সাবেক পরিচালক তানভীর আহম্মেদ টিটুর নামে ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর পয়েন্ট ২২ বোরের রাইফেলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। গত বছরের ৫ নভেম্বর পয়েন্ট ২২ বোরের এনপিবি পিস্তলেরও লাইসেন্স পান তিনি। অস্ত্র দুটি তিনি জমা দেননি। শামীম ওসমানের বেয়াই (ছেলের শ্বশুর) ফয়েজউদ্দিন আহমেদ লাভলুও তার লাইসেন্সপ্রাপ্ত শটগানটি জমা দেননি।
এদিকে ওসমান পরিবারের মেজ ছেলে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিম ওসমানও তার আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেননি। ২০২০ সালের ১ মার্চ তার নামে পিস্তলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। ২০২৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আরেকটি পিস্তলের লাইসেন্সও দেওয়া হয় তাকে। অন্যদিকে ওসমান পরিবারের পুত্রবধূ সারাহ বেগম কবরীর নামে ২০১৩ সালের ২৭ মে রিভলভারের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। এটি বর্তমানে জেলা প্রশাসনের অবৈধ ঘোষিত তালিকায় রয়েছে।
গত বছরের ১৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জ শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন শামীম ওসমান ও তার বাহিনী। তার নেতৃত্বে গুলি করার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন, শ্যালক টিটু, বেয়াই লাভলু, তার ছেলে মিনহাজুল আবেদীনসহ অনুসারীদের গুলি করতে দেখা গেছে। এছাড়া, শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমান ও তার বাহিনীর কাছেও একাধিক অবৈধ অস্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যদিও আজমেরী ওসমানের কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল না। গত বছর তিনি জেলা প্রশাসনের কাছে শটগান ও পিস্তলের লাইসেন্সের আবেদন করলেও অনুমোদন পাননি।