আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১৯:২০ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় দৈনিক যুগান্তরের জেলা স্টাফ রিপোর্টার ফজলে রাব্বি ও আরটিভির আখাউড়া প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। আখাউড়ার সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের আয়োজনে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় শহরের পৌর মুক্তমঞ্চের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আখাউড়া প্রেসক্লাব, টেলিভিশন জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশন, রিপোটার্স ইউনিটটি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম, সাংবাদিক কল্যাণ সোসাইটির সাংবাদিকেরা অংশ নেয়।
এছাড়াও এতে সংহতি প্রকাশ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, ঐক্যবদ্ধ আখাউড়া, ইনসানিয়াত বিপ্লবসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, ইমিগ্রেশন ওসি আব্দুস সাত্তার ও আখাউড়া থানার ওসি ছমিউদ্দিনের প্রত্যাহার এবং দৈনিক যুগান্তর ও আরটিভিতে প্রকাশিত ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের অনিয়ম-দুর্নীতির সংবাদের সুষ্ঠ তদন্ত করে দায়িদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিন দফা দাবি জানানো হয়।
আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটনের সভাপতিত্বে এ সময় বক্তৃতা করেন- জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল মনসুর মিশন, পৌর জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি আব্দুর রহমান কাশগরি, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মন্তাজ মিয়া, দৈনিক যুগান্তরের জেলা প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের আখাউড়া শাখার সভাপতি আফজাল খান শিমুল, এনসিপির প্রতিনিধি আসিফ নেওয়াজ, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি শওকত চৌধুরী, ব্রাহ্মনবাড়িয়া সাংবাদিক সমিতির সভাপতি জুয়েল মিয়া, দৈনিক দেশরূপান্তরের বিজয়নগর উপজেলা প্রতিনিধি এসএম জহিরুল ইসলাম টিপু প্রমুখ। মানববন্ধনে সঞ্চালনা করেন আখাউড়া প্রেসক্লাবের সহসভাপতি কাজী হান্নান খাদেম।
বক্তারা দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পুলিশ কর্তৃক মামলার তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তারা অন্যায়-অনিয়ম, সফলতা, সম্ভাবনা, জনদুর্ভোগ ইত্যাদি বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে থাকেন। সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদে সমাজ ও দেশের কল্যাণ বয়ে আনে। আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোষ্টের অনিয়মের সংক্রান্ত সংবাদে ইমিগ্রেশন ওসির যদি কোন আপত্তি থাকে তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট পত্রিকায় প্রতিবাদ পাঠাতে পারতেন বা প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দিতে পারতেন। তা না করে সাংবাদিকের নামে মামলা দেওয়া এবং তদন্ত ছাড়াই দ্রুত মামলা নথিভুক্ত (এফআইআর) করা অনভিপ্রেত ও উদ্দেশ্যমূলক। এটি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার অপপ্রয়াস।
বক্তারা আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকারের আমলে বিভিন্ন আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বাধা সৃষ্টি করে রাখা হয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানের পরও যদি ফ্যাসিবাদি কায়দায় সাংবাদিকদের টুঁটি চেপে ধরার চেষ্টা চলতে থাকে তাহলে প্রশাসনে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা পার পেয়ে যাবে। তখন তারা বিনা বাধায় দুর্নীতি ও অনিয়ম করবে। এতে সাধারণ মানুষ পদে পদে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হবেন। বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
উল্লেখ্য যে, ৭ আগস্ট দৈনিক যুগান্তর ও আরটিভির অনলাইনে ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট ওসিসহ কয়েকজন পুলিশের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। এরপর আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ওসি আব্দুস সাত্তার বাদি হয়ে গত মঙ্গলবার সাংবাদিক ফজলে রাব্বি ও সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে আখাউড়া থানায় চাঁদাদাবী ও মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেন।