ভুবন সেন, খানসামা (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২৫ পিএম
আত্রাই নদীর বুকে ভেসে আছে ছোট্ট এক চর, ‘মাঝিয়ালির চর’। প্রবা ফটো
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ি ইউনিয়নের বাসুলী এলাকায় আত্রাই নদীর বুকে ভেসে আছে ছোট্ট এক চর, ‘মাঝিয়ালির চর’। চারপাশে নদীর ঢেউ আর সবুজ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে প্রায় ২০ একর আয়তনের এই চরে বসবাস করছে মাত্র ১৩টি পরিবার।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শীত-গ্রীষ্মে এখানকার জীবন চলে চাষাবাদ, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে। কিন্তু বর্ষা এলে পুরো চিত্র বদলে যায়। নদীর পানি বেড়ে চরটি জলবেষ্টিত হয়ে পড়ে, বাইরের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় জরুরি সময়ে পারাপারে। কারণ চরের বাসিন্দাদের নিজস্ব কোনো নৌকা নেই।
স্থানীয় বৃদ্ধ আব্দুল লতিফ বলেন, ‘৭১ সালের যুদ্ধের পর থেকেই এখানে বসবাস করছি। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। অসুস্থ হলে বা জরুরি কাজে বাইরে যেতে অন্যের নৌকা ভাড়া করতে হয়, যা অনেক সময় পাওয়া যায় না।’
মাঝিয়ালির চরের বাসিন্দা সোহেল ইসলাম বলেন, ‘বর্ষায় বাজার করা থেকে শুরু করে শিশুদের স্কুলে যাওয়া পর্যন্ত সবকিছুই কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে কেউ অসুস্থ হলে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। আমাদের যদি একটি নিজস্ব নৌকা থাকত, এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত।’
আলোকঝাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান জানান, এর আগে তাদের যাতায়াতের জন্য একটি নৌকা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেটি এখন ব্যবহার অনুপযোগী। ইউএনও’র নির্দেশে নতুন নৌকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে, শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘মাঝিয়ালির চরের যাতায়াত সমস্যা সম্পর্কে জানার পর সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জরুরি পরিস্থিতিতে তারা যেন নৌকায় যাতায়াত করতে পারে, সে বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’