ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩৮ পিএম
পাবনার ঈশ্বরদীতে দু’দিন ধরে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে বিয়ের দাবিতে অনশনে বসেছেন মোছা. সুমাইয়া খাতুন (১৯) নামে এক নারী। এতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এলাকাজুড়ে। বুধবার রাত ৯টা থেকে তিনি অনশন শুরু করেন। শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে গিয়েও তাকে অনশনে দেখা গেছে। আওতাপাড়া বাজার সংলগ্ন মো. বাপ্পি সরদার নামে এক যুবকের বাড়িতে ওই নারী অনশন করছেন। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়েও কোনো সমাধান করতে পারেনি।
জানা গেছে, ঈশ্বরদীর আওতাপাড়া গ্রামের মো. মুন্নু সরদারের ছেলে বাপ্পি সরদারের সঙ্গে প্রায় ৬ মাস আগে ফেসবুকে পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ওই নারীর। পরে তারা রূপপুর এলাকায় তিন মাসের জন্য স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে একটি বাসা ভাড়া নেয়। সেই ভাড়া বাসাতে মাঝে-মধ্যে প্রেমিক বাপ্পি সরদার রাতযাপন করতেন। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে প্রেমিকা সুমাইয়া খাতুনের সঙ্গে একাধিকবার করেছেন শারীরিক সম্পর্কও।
তবে কিছুদিন ধরে প্রেমিক বাপ্পি ওই নারীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে প্রেমিকা সুমাইয়া খাতুন দুদিন ধরে বিয়ের দাবি নিয়ে প্রেমিক বাপ্পির বাড়িতে অনশনে বসেছেন। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের দাবিতে অনশনে বসা সুমাইয়া খাতুনের পূর্বে একটি বিয়ে হয়েছিল, যেখানে তার চার বছরের একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে। এক বছর আগে পূর্বের স্বামীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পর পূনরায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বাপ্পির সঙ্গে।
স্থানীয়রা বলেন, এ ধরনের ঘটনা অবশ্যই ন্যক্কারজনক। বিয়ের আশ্বাসে একসঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করে এখন বিয়ে করতে অস্বীকার করা হচ্ছে। যে কারণে এই নারী দুদিন ধরে বিয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন।
ভুক্তভোগী সুমাইয়া খাতুন বলেন, বাপ্পির সঙ্গে ছয় মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। সে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ভাড়া বাসায় আমার সঙ্গে বসবাস করছে। আমি তার জন্য আমার চার বছরের সন্তান রেখে চলে এসেছি। এখন সে বিয়ে করতে অস্বীকার করছে। তাই বিয়ের দাবি নিয়ে তার বাড়িতে এসেছি। বাপ্পি যদি বিয়ে না করে তবে এখান থেকে আমার লাশ যাবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রেমিক বাপ্পি সরদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আ স ম আব্দুন নূর বলেন, দুই পক্ষের কারও কাছ থেকেই কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী কোনো লিখিত অভিযোগ দিলে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।