শামীম মিয়া, নরসিংদী
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৫ ১১:২৫ এএম
নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনায় ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি। প্রবা ফটো
মহাগ্রন্থ কুরআন শরীফের প্রথম বাংলা অনুবাদক ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন শুধু নরসিংদী বা বাংলাদেশে নয় সমগ্র উপমহাদেশেই একটি অতি পরিচিত নাম। ইতিহাস ঐতিহ্যের অন্বেষণে প্রতিবছর অসংখ্য দর্শনার্থী ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের স্মৃতিচিহ্ন দেখতে আসে নরসিংদী তার নিজ বাড়িতে। বছরের পর বছর অযত্ন, অবহেলায় থাকলেও সরকার, প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন মিলে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িটি সংস্কার করার পাশাপাশি ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণ করে। দর্শনার্থীরা গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি ও জাদুঘর ঘুরে দেখার পাশাপাশি জানতে পারছে ইতিহাসের নানা তথ্য উপাত্ত।
১৮৩৪ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন। হিন্দু পরিবারে জন্ম হলেও আরবি-ফার্সি ভাষার পাণ্ডিত্যে দেশজুড়ে ছিল তার সুনাম-সুখ্যাতি। ১৮৭৬ সালে ৪২ বছর বয়সে তিনি মৌলভী এহসান আলীর কাছে আরবি ব্যাকরণ শেখেন। ৩ বছর কঠোর সাধনার পর ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বাংলায় গিরিশ চন্দ্র সেনই সর্বপ্রথম ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে কুরআন শরীফের প্রথম পারা বাংলা অনুবাদ করেন, যা শেরপুর চারু চন্দ্র প্রেস থেকে ছাপা হয়। পরবর্তী ৬ বছর কঠোর পরিশ্রম করে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফের বাংলা অনুবাদ প্রকাশ করেন। তার প্রকাশিত ৩৩টি গ্রন্থের মধ্যে ২২টি ইসলাম ধর্ম বিষয়ক। ভাই গিরিশ চন্দ্র সেন ১৯১০ সালের ১৫ আগস্ট শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। নরসিংদীর পাঁচদোনায় গ্রামের বাড়িতে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।
এরপর ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের স্মৃতি বিজড়িত পাঁচদোনার এই বাড়িটি সংরক্ষণ তো দূরের কথা, উল্টো বেদখলে চলে যায়। পরে ২০১৫ সালে নরসিংদী জেলা প্রশাসন ও প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র ঐতিহ্য অন্বেষণের জন্য বাড়িটি সংরক্ষণ ও একটি প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর নির্মাণের চুক্তি হয়। এরপর সরকারের নিয়ন্ত্রণে ও দিক নির্দেশনায় সংরক্ষণের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়িতে করা হয়েছে একটি জাদুঘর। এখানে তুলে রাখা হয়েছে ভাই গিরিশ চন্দ্র সেনের সময়কালীন উনিশ শতকের জিনিসপত্র ও তার লেখা বই। আর যা দেখতে প্রতিনিয়তই ভিড় জমাচ্ছেন দেশের দূরদূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরা।
গিরিশ চন্দ্র সেন জাদুঘরের তত্ত্বাবধায়ক কাওসারুল হক কানন জানান, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের অধীনে জাদুঘরটি পরিচালিত হচ্ছে। বাড়িটি দোতলাবিশিষ্ট। নিচের তলায় অভ্যর্থনা কক্ষ, উনিশ শতকের ব্যবহৃত জিনিসপত্র, ভাষা গ্যালারি ও দোতলায় শয়নকক্ষ, মুক্তিযুদ্ধ গ্যালারি, ব্রাহ্ম সমাজের তথ্য দেওয়া আছে। তবে আগের দর্শনার্থী সমাগমের তুলনায় এখন অনেক বেশি। আশা করছি, ভবিষ্যতে এটা আরও বাড়বে। গিরিশ চন্দ্র সেনের বাড়ি জাদুঘর সপ্তাহে ৬ দিন খোলা থাকে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। এ বিষয়টি মাথায় রেখে ভ্রমণপিপাসুরা অতি সহজেই আসতে পারেন এ স্থানটিতে।