রংপুরে গণপিটুনীতে মৃত্যু
রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৪২ পিএম
রংপুরের তারাগঞ্জে গণপিটুনীতে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) দুপুর দেড়টায় আসামি আখতারুল ইসলাম (৪৫), মিজানুর রহমান (২৬), রফিকুল ইসলাম (৪০) ও ইবাদত আলীকে (৩৫) আদালতে তোলা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম আসামিদের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। তারাগঞ্জ কগনিজেন্স আদালতের বিচারক কৃষ্ণ কমল রায় তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
৮ পুলিশ সদস্য সাময়িক বরখাস্ত
দায়িত্বে অবহেলার ঘটনায় বুধবার রাতে তারাগঞ্জ থানার দুই এসআইসহ আট পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা পুলিশ। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- তারাগঞ্জ থানার এসআই আবু জোবায়ের, এসআই সফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল ফারিকুদ আখতার জামান, ধীরাজ কুমার রায়, হাসান আলী, ফিরোজ কবির, মোক্তার হোসেন ও বাবুল চন্দ্র রায়। তাদের রংপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি
এদিকে গণপিটুনীতে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ মোহাম্মদ ফারুকুজ্জামানকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সুপার আবু সায়েম বলেন, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পুলিশ সদস্যরা ঘটনার দিন মোবাইল টিমের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সঙ্গে রূপলাল হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবু জোবায়েরকে তদন্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারাগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামকে।
উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট রাতে তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের রূপলাল তার ভাগ্নি জামাই প্রদীপ লালকে নিয়ে মেয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য বাংলা মদ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। রাত সাড়ে ৯টায় সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাটে তাদের ভ্যান থামিয়ে কিছু যুবক মদের ব্যাগ কেড়ে নেয় এবং চোর চোর বলে চিৎকার করে। এ সময় স্থানীয়দের গণপিটুনীতে রূপলালের মৃত্যু হয়। পরে ১০ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত প্রদীপ মারা যান। এ ঘটনায় রূপলালের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে ৫’শ থেকে ৭’শ জন অজ্ঞাতকে আসামি করে তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। ১১ আগস্ট সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করে।