নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের মেঘনা নদী এখন যেন অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শনী ও বালু দস্যুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। নদীপাড়ের চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ বহু গ্রাম দিনরাত কাঁপছে শতাধিক খননযন্ত্রের গর্জনে। ফলে ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং শত শত বাড়িঘর নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার হুমকিতে রয়েছে।
গত রবিবার (১০ আগস্ট) বিকেলের এক মর্মান্তিক ঘটনা আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সোনারগাঁও থেকে সলিমগঞ্জের গণিশাহ মাজারে ওরশে অংশ নিতে যাওয়া একটি ট্রলার দড়াভাঙ্গা এলাকায় পৌঁছালে বালুবোঝাই বাল্কহেডের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মুহূর্তেই ট্রলারটি ডুবে যায়, প্রাণ হারান আশরাফ উদ্দিন (৪৪) নামে এক ব্যাক্তি।
সরকারি নথি অনুযায়ী, সাহেবনগরের শাখাওয়াত হোসেনের প্রতিষ্ঠান মেসার্স সামিউল ট্রেডার্স ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ৩০ চৈত্র পর্যন্ত নাসিরাবাদ বালুমহাল ৮ কোটি ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় ইজারা পেয়েছে। কিন্তু ইজারার নিয়ম না মেনে রাতদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে। এই বালু ব্যবসায় জড়িত রয়েছে পার্শ্ববর্তী উপজেলা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শতাধিক প্রভাবশালী নেতা-কর্মী।
স্থানীয়রা দাবি করছেন, স্বর্ণমহল খ্যাত এই বালু মহলকে ঘিরে সশস্ত্র পাহারা চলে। কেউ প্রতিবাদ করতে আসলেই জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইজারাদার শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমরা সরকারি নিয়ম মেনেই কাজ করছি। অস্ত্র মহড়া বা রাতে বালু উত্তোলনের অভিযোগ সঠিক নয়। প্রশাসনকেও বলেছি, রাতে কোনো ড্রেজার চললে জব্দ করতে।
সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মেহেদি হাসান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখনই ঐক্যবদ্ধ না হলে চরলাপাং, মানিকনগরসহ আশপাশের গ্রামগুলো মানচিত্র থেকে মুছে যাবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী জানান, তার কাছে বালু মহলে অবৈধ কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে বালু মহলে অভিযান পরিচালনা জটিল, কারণ সেখানে মাঝে মাঝে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। তবে শিগগিরই যৌথ বাহিনী নিয়ে অভিযান চালানো হবে।