সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৭:১২ পিএম
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ থেকে লুট হওয়া প্রায় ১২ হাজার ঘনফুট পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। এসব পাথর পর্যটন কেন্দ্র সাদাপাথরে ফেলা হয়েছে। এছাড়া বৃস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত লুট হওয়া পাথরবোঝাই ১৩০টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ পাথরও পর্যটন কেন্দ্রে ফেলা হবে।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, লুট হওয়া সব পাথর আগের জায়গায় ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।
গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসক মো. শের মাহবুব মুরাদের নেতৃত্বে একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় পাথর লুটপাট ঠেকানো ও লুটের পাথর সাদাপাথরে পুনঃস্থাপনে পাঁচ দফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিদ্ধান্তগুলো হলো— জাফলং ইসিএ এলাকা ও সাদাপাথর এলাকায় ২৪ ঘণ্টা যৌথবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ এ পুলিশের চেকপোস্ট যৌথ বাহিনীসহ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে। অবৈধ ক্রাশিং মেশিনের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নসহ বন্ধ করার জন্য অভিযান চলমান থাকবে। পাথর চুরির সঙ্গে জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। চুরি হওয়া পাথর উদ্ধার করে আগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে হবে।
পাথর উদ্ধারে ইতোমধ্যে তল্লাশি চৌকি বসিয়ে অভিযান শুরু করেছে যৌথবাহিনী। বুধবার রাত ১০টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়। সারা রাত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলে। আজ সকাল পর্যন্ত এসব অভিযানে পাথরবোঝাই ১৩০টি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। এ পাথরও সেখানে ফেলা হবে।
সিলেট নগর পুলিশের উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তারা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন।
এদিকে লুট হওয়া সাদা পাথর সাত দিনের মধ্যে আগের জায়গায় ফেরত দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাথর লুটকারীদের তালিকা আদালতে দাখিলেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকা সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ এ আদেশ দেন।
একই ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিতে করা আরেকটি রিটের শুনানির জন্য আগামী রবিবার (১৭ আগস্ট) দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট।