সাইদুর রহমান আসাদ, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০৫ পিএম
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১৭:০৬ পিএম
ড্রেজারের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত যাদুকাটা নদীর দুই পাড়
বিগত সরকারের আমলে সুনামগঞ্জের রূপের নদী যাদুকাটায় ইজারা পদ্ধতির আড়ালে হয়েছে ভয়াবহ পরিবেশ ধ্বংস। সনাতনি পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও ড্রেজার ও সেইভ মেশিনের তাণ্ডবে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে নদীর দুই পাড়, ভেঙে পড়েছে রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি ও সরকারি খাস জমি। গণঅভ্যুত্থানের পরও অবৈধ এই কার্যক্রম বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ পরিবেশ আন্দোলনকর্মীদের।
জেলার সবচেয়ে বড় বালুমহাল হিসেবে পরিচিত যাদুকাটা ১ ও ২ মহালের ইজারা কার্যক্রম উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞায় বর্তমানে স্থগিত। তবে শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে পুনরায় ইজারা চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে।
বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী সেতু, বাঁধ, আবাসিক এলাকা ও নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন এলাকায় বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ। ড্রেজিং করে নদীর তীর ভাঙন বা জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হলে বালু তোলা যাবে না। ভূগর্ভস্থ বালু উত্তোলনও আইনত অপরাধ। আইন অমান্য করলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং ড্রেজার ও পরিবহন বাজেয়াপ্তের বিধান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইজারার নামে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ড্রেজার চালিয়ে বালু লুট হয়েছে। দানবাকৃতির মেশিনের মাধ্যমে খুবলে নেওয়া হয়েছে নদীর পাড়। এতে বিলীন হয়েছে নদী তীরবর্তী রাস্তাঘাট, মানুষের ঘরবাড়ি ও সরকারি খাস জমি।
সুনামগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মল্লিক মইনুদ্দিন সোহেল বলেন, বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ বিভিন্ন সিমাবদ্ধতার কারণে সঠিক প্রয়োগ আমরা দেখি না। সিমাবদ্ধতাগুলো দূর করে এই আইনের সঠিক প্রয়োগ হলে এ ধরণের অপরাধের প্রবণতা কমবে।
বাদাঘাটের সমাজকর্মী আবুল হোসেন বলেন, ‘ইজারার অনুমতি দেয় প্রশাসন, তত্ত্বাবধানও করে প্রশাসন। তবুও ড্রেজারের মাধ্যমে নদীর পাড় কাটা হলো কীভাবে? নদীর পাড় কাটা হয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হোক। যাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। যাতে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ড করার কেউ সাহস না করে।’
পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল করিম সাঈদ বলেন, ‘যাদুকাটা নদী এখন প্রস্থে অস্বাভাবিক বড়। ম্যাপ ও রেকর্ড ধরে পরিমাপ করলে বোঝা যাবে মূল নদী কোথায় ছিল আর কতখানি দখল হয়েছে।’
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ বালু উত্তোলনের দৌরাত্ম্য কমেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সমীক্ষা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ক্ষয়ক্ষতির তদন্ত প্রতিবেদন দিতে সিলেট পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছে।