× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

ত্রিপুরা পল্লীর ককবরক ভাষার স্কুল বন্ধের পথে

কুমিল্লা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১১:১৩ এএম

কুমিল্লার সালমানপুর এবং জামমুড়া এলাকায় ত্রিপুরা পল্লীর স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

কুমিল্লার সালমানপুর এবং জামমুড়া এলাকায় ত্রিপুরা পল্লীর স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। প্রবা ফটো

বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে কুমিল্লার ত্রিপুরা পল্লীর ককবরক ভাষা শিক্ষার স্কুলটি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ভাষা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এখানকার শিশু-কিশোররা।

স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ত্রিপুরা পল্লীর বাসিন্দাদের মনে আশার আলো জ্বলে উঠেছিল। স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর এতে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া শুরু হয়। এটি টিকিয়ে রাখতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন থেকে সাহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে স্কুলটি দৈন্যদশায় পড়েছে। কেউ আগের মতো খোঁজ-খবর নিচ্ছে না। সরকারি সহায়তাও মিলছে না।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, কুমিল্লার সদর দক্ষিণের সালমানপুর এবং জামমুড়া এলাকায় ৪৫ থেকে ৫০টি ত্রিপুরা পরিবার বসবাস করে থাকে। এ ছাড়া এর আশপাশে আরও তিনটি গ্রাম মিলিয়ে দুই শতাধিক ত্রিপুরা পরিবারের বসবাস।

একসময় কুমিল্লা অঞ্চল ছিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের অংশ। তবে দেশভাগের পর কুমিল্লা অঞ্চল বাংলাদেশের অন্তর্গত হয়। ত্রিপুরা অধ্যুষিত এই এলাকায় এই সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তির পথে। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মাতৃভাষা ককবরক ভাষা শেখার লিখিত কোনো বই এ মুহূর্তে নেই। তাই ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সালমানপুর এলাকায় ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের শিশুদের মাতৃভাষায় কথা বলা ও লেখা শেখানোর জন্য জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে ককবরক মাতৃভাষা স্কুল প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্কুলটিতে ৪০ জন শিশু ককবরক ভাষা শেখার সুযোগ পায়। স্কুল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ককবরক ভাষা শেখার বই প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ও ককবরক ভাষার কবি এই স্কুলের শিক্ষক হিসেবে স্বেচ্ছায় দায়িত্বপালন করেন। পাশাপাশি স্থানীয় অগ্রসর ছেলেমেয়েরা প্রতিষ্ঠানটি চালিয়ে নেন। কিন্তু গত বছরে ওই স্কুলের শিক্ষক মনীন্দ্র ত্রিপুরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রশাসন থেকেও সহযোগিতা বন্ধ হয়ে যায়। এতে মুখ থুবড়ে পড়েছে স্কুলটির কার্যক্রম।

স্কুলের তত্ত্বাবধায়ক সজীব ত্রিপুরা জানান, অনেক চেষ্টা করেছি স্কুলটি টিকিয়ে রাখতে। মাঝখানে নিজেদের লোক দিয়ে ক্লাস করিয়েছি। নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে শিক্ষকদের নাশতা করাতাম। এখন তাও সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে অবকাঠামো ঠিক না থাকায় স্কুলের ফ্যানটিও চুরি হয়ে গেছে।

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও রুবাইয়া খানম বলেন, পরিকল্পিতভাবে স্কুলটি স্থাপন করা হয়নি। এটি সিটি করপোরেশনের এলাকায় পড়ায় আমরাও ওভাবে সহায়তা করতে পারছি না। তারপরও একবার অনুদান দিয়েছি। স্কুলটি এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলের সঙ্গে কথা বলব।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা