লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১০:০৭ এএম
আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ১০:১৩ এএম
প্রবা ফটো
উজানের পাহাড়ি ঢল ও টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার) থেকে ১৫ সেন্টিমিটার ওপরে রেকর্ড করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
পাউবো জানিয়েছে, বুধবার সকালে পানি প্রথমে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে, পরে কিছুটা কমে ৪ সেন্টিমিটারে নামে। তবে রাতের বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলে ভোরে তা আবারও বেড়ে ১১ সেন্টিমিটার হয় এবং সকালে গিয়ে দাঁড়ায় ১৫ সেন্টিমিটারে।
টানা ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিপদসীমার ওপরে পানি প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাট ও নীলফামারীর বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে অন্তত ৪৫টি গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তলিয়ে গেছে রোপা আমনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, গয়াবাড়ী, খালিশা চাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান, সিঙ্গামারি, সিন্দুর্না, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, মহিষখোচা, গোবর্ধন, কালমাটি, বাহাদুরপাড়া, পলাশী, ফলিমারী, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, রাজপুর, বড়বাড়ী ও গোকুন্ডা ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।
আদিতমারীর গোবর্ধন গ্রামের মতিয়ার রহমান বলেন, বন্যার পানিতে সাত দিন ধরে রান্না করতে পারিনি। গরু-ছাগল উঁচু জায়গায় রেখেছি। সাহায্যের চেয়ে চাই, পানি যেন আর না আসে।
পানিবন্দি মর্জিনা বেগম বলেন, গরু-ছাগলের খাবার জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। ১০ কেজি চাল পেয়েছি, কিন্তু এটা সমাধান নয়।
ডিমলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে তিস্তা নদীর পানি বাড়তে থাকে। ইউনিয়নের বিভিন্ন চরের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এবং আতঙ্কে আছেন।
টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, তিস্তার পানি বেড়ে নদীর কয়েকটি চ্যানেল বের হয়ে আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। স্বেচ্ছাশ্রমে এসব চ্যানেল বন্ধের চেষ্টা চলছে, পাউবো এতে সহযোগিতা করছে।
পাউবো জানিয়েছে, আগামী দুই দিন এই অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ব্যারাজের সব ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
চলতি মৌসুমে এটি তিস্তায় তৃতীয় দফা বন্যা। জুলাইয়ের ২৯ তারিখে প্রথম দফায় এবং ৩ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল। এবার ১৩ আগস্ট থেকে পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং এখনও বিপদের আশঙ্কা কাটেনি।