ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক
এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার)
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০২৫ ০০:৩৯ এএম
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে বিলুপ্তপ্রায় রাজ ধনেশ পাখি। পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম রেমাক্রি এলাকা থেকে রাজ ধনেশ পাখি দুটি উদ্ধার করে বন বিভাগ।
সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাখিগুলো ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের পাখিশালাতে রাখা হয়েছে। গত বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (রেঞ্জ কর্মকর্তা) মো. মনজুর আলম।
বান্দরবান বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. আবদুর রহমান বলেন, থানচি উপজেলার দুর্গম রেমক্রি ইউনিয়নের এক পাহাড়ি বাসিন্দার বাড়িতে বিক্রির উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়েছিল বিলুপ্তপ্রায় ধনেশ পাখি দুটি।
গত বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে বনকর্মীরা পাখিগুলো উদ্ধার করে। পরে থানচি থেকে পাখিগুলো বান্দরবান সদর বন বিভাগের কার্যালয়ে আনা হয়। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে সেগুলো ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, পৃথিবীতে ৫৬ প্রজাতির রাজ ধনেশ পাখি রয়েছে। আমাদের দেশে তার মধ্যে ৪ প্রজাতির ধনেশ পাখি মুক্ত বনাঞ্চলে পাওয়া যায়। বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে এই পাখি এখন বিলুপ্তির পথে। সর্বশেষ গত ৬ আগস্ট পার্বত্য জেলা বান্দরবানের থানচি উপজেলা গহিন বন থেকে এক পাহাড়ি বাসিন্দার বাসা থেকে দুটি রাজ ধনেশ পাখি উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজ ধনেশ পাখি চেনার উপায় হলোÑ শিংয়ের মতো বাঁকানো ঠোঁট যা খুব শক্ত। ফলমূল, পোকামাকড়, কীটপতঙ্গ এদের প্রধান খাবার।
ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুর আলম বলেন, ধনেশ পাখি দুটি পার্কে আনার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পার্কের ভেটেরিনারি হাসপাতালে রাখা হয়। সেখানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে পাখিগুলোকে পাখিশালায় রাখা হয়েছে। পার্কের পাখিশালায় ফলমূল সরবরাহ করা হচ্ছে। আকারে কিছুটা ছোট হলেও শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পার্কে আসা দর্শনার্থীরা ধনেশ পাখি দেখে মুগ্ধ হচ্ছে। এ ধরনের পাখি এখন পাওয়া যায় না। তাই দর্শনার্থীদের কাছে খুব আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। দর্শনার্থীরা যাতে পাখিগুলোকে ঢিল ছুড়ে না মারে সেজন্য পার্কের কর্মচারীরা দেখভাল করছেন।