প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ২১:১৫ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ২১:৩৪ পিএম
পাবনার ফরিদপুর উপজেলা যুবলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া।এরপর যোগ দেন ফরিদপুর উপজেলা বিএনপিতে। ভোল পাল্টে বিএনপি নেতা বনে যাওয়া সেই জিয়ার লাগামহীন চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিয়ার জীবন শুরু হয় সাইকেল মেকারের কাজ করে। পরবর্তীতে মহিশের গাড়ি চালিয়ে মানুষের পণ্য বহন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এরপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সর্বহারা সন্ত্রাসী সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হয়ে ওঠেন। শুরু হয় তার অপরাধের জীবন। খুন, চাঁদাবাজিসহ নানা ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তার অবৈধ টাকা দিয়ে ইতোমধ্যে গ্রামে তিন তলা বাড়ি তৈরি করেছেন, চলাফেরা করেন প্রাইভেট কার নিয়ে। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর তার এই রাতারাতি পরিবর্তন রীতিমতো এলাকার সবাইকে ভাবিয়ে তুলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সদ্য সাবেক সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান জিয়া এলাকার সাধারণ মানুষকে তার ক্যাডার বাহিনীর ভয় দেখিয়ে ও মারধর করে ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেন। তাকে চাঁদা দিতে গিয়ে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। কেউ তার ভয়ে ঠিকমতো কথা বলতে পারে না। দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির জন্য তিনি গড়ে তুলেছেন ক্যাডারবাহিনী। বিভিন্ন হাট-বাজার, পুকুর ও জমি দখল করে চলেছেন তার এই ক্যাডার বাহিনীর সদস্যরা। জেলার দায়িত্বশীল নেতারা তাকে একাধিকবার সতর্ক করার পাশাপাশি কেন্দ্রে অভিযোগ দিলেও তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছেন না। সর্বশেষ বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপির দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়ক আবদুস সালামের হস্তক্ষেপে গত ১৯ জুন বিকেলে এই কমিটি বাতিল করা হয়।
এর আগে গত ১০ জুন আগের কমিটি বিলুপ্ত করে অধ্যক্ষ আব্দুল দাইয়ান মঞ্জুকে আহ্বায়ক এবং জিয়াউর রহমান জিয়াকে সদস্য সচিব করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই আলোচনা সমালোচনার ঝড় ওঠে। সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান জিয়াসহ একাধিক নেতার আওয়ামী লীগের বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের ছবিসহ নানান বিষয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে চলা বিতর্কিত নেতাদের পদ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন স্থানীয় নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক বিএনপি নেতা জানান, মাদক, নারী কেলেঙ্কারি, জমি দখল থেকে শুরু করে ৫ আগস্ট এর পর থেকে এমন কোন কাজ নেই, যা জিয়া করেননি। তার ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকান ও মার্কেট নিজ নামে ও নিজের ক্যাডার বাহিনীর নামে বরাদ্দ নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার একাধিক নারী কেলেঙ্কারির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
জিয়ার অপকর্মের বর্ণনা দিয়ে গিয়ে জহুরুল ইসলাম নামের এক মৎস্য ব্যবসায়ী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর এই জিয়া অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক বারাবিল দখল করে। আমি সেটা ডিসি অফিস থেকে ডাকের মাধ্যমে পেয়েছিলাম এবং ৭০ লাখ টাকা রাজস্বখাতে জমা দিয়েছিলাম। কিন্তু জিয়া কোনোরকম আইনের তোয়াক্কা না করে এই বিল দখল করে ও কোটি টাকা আয় করে। উপায় না পেয়ে আমি ডিসি অফিস ও সেনাবাহীনির কাছে লিখিত অভিযোগ দেই। কিন্তু প্রশাসন তখন নিরুপায় ছিলাম।’
স্থানীয় আইনজীবী রোকনুজ্জামান রানা বলেন, ‘জিয়া যেটা করছেন, তাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। তিনি কিছু দিন আগেও এক জাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোর করে ৩ লাখ টাকা চাঁদা নিয়েছেন। সেই ব্যবসায়ী ভয়ে মুখ খুলতে পারছেন না।’
এ বিষয়ে ফরিদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল হাকিম খান বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অমান্য করে এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার,পুকুর ও জমি দখল করে চলেছেন জিয়া, যা দলকে জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তার অপকর্মে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পাবনার ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি নেতা জিয়াউর রহমান জিয়া দাবি করেন, এসব অভিযোগের কোনো সত্যতা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে এসব অভিযোগ করা হচ্ছে।