সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৩০ পিএম
আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১৮:৩৪ পিএম
সিলেটের ভোলাগঞ্জে লুট হওয়া পাথর উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে দুদক। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে দুদকের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজমুস সাদাত রাফির নেতৃত্বে এই অভিযান চলে।
লুটের ঘটনায় প্রশাসনের দায় রয়েছে বলে জানান দুদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাত।
তিনি বলেন, এটা মূলত স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব। প্রশাসনের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন ছিলো। তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা দরকার ছিলো। খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরোর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন ছিলো।
তিনি বলেন, এখানে কয়েকশ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাথর লুট হয়েছে। পর্যটকরা ‘সাদাপাথর’ এলাকায় এসে হতাশ । এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে।
কারা এই লুটের সাথে জড়িত এমন প্রশ্নে দুদক কর্মকর্তা বলেন, আশপাশে অনেক স্টোন ক্রাশার মিল। এগুলোতে এখান থেকে পাথর নিয়ে ভাঙা হয়। এছাড়া এর সাথে এখানকার প্রভাবশালী ব্যক্তি, স্থানীয় লোকজন, আরও অনেক উচ্চস্তরের ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীরা জড়িত বলে শুনতে পাচ্ছি। আমরা এসব তথ্য নিয়ে আরও কাজ করবো।
প্রায় একবছর ধরেই সাদাপাথরে লুটপাট চলছে। গত ১৫ দিনে যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। লুটপাট শেষ হওয়ার পর পরিদর্শনে আসা প্রসঙ্গে দুদকের এই উপ পরিচালক বলেন, আমরা প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশনায় কাজ করি। তাছাড়া সিলেট কার্যালয় থেকে সাদাপাথরের অনেক দূরত্ব। আমাদের জনবলও কম।
এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি কমিটি হয়েছে। একজন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ জানান, ‘লুটপাটের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের সীমান্তের জিরো লাইন সংলগ্ন দশ নম্বর এলাকার নাম ‘সাদাপাথর’। এই সাদাপাথর এলাকায় প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটকের পদচারণা ঘটে কেবল সৌন্দর্য্যরে টানে।
গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই চলছে এই লাগামহীন লুটপাট। প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর তৎপরতায় কিছুদিন বন্ধ ছিলো লুটপাট। তবে গত মাসের শেষ দিকে লুটপাট বেড়ে যায়। ওই সময়ে মেঘালয়ের পাহাড় থেকে ঢলের সাথে বিপুল পরিমাণ পাথরও নেমে আসে। এরপর থেকে প্রতিদিন চলে লুটপাট। প্রতিদিন শত শত নৌকা দিয়ে লুটেরারা পাথর নিয়ে যায়।
বিভিন্ন এলাকা থেকে পাথর উত্তোলনের কাজ করে বারকি শ্রমিকরা। পরে তারা নদী ও আশপাশের এলাকায় মজুত করে রাখে। সেখান থেকে কিনে নেন ব্যবসায়ীরা। শ্রমিকরা প্রধান ভূমিকায় থাকলেও তাদের মদদ ও আশ্রয় নেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা।