বাঘা (রাজশাহী) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১৪:০৬ পিএম
বিএনপি নেতা তফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাগত যোগ্যতার জাল সনদ দিয়ে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে জাল সনদের বিষয়টি ধরা পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার সভাপতির পদ বাতিল করতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চিঠি দিয়েছে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ।
গত ৭ আগস্ট শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. শামীম হাসানের সই করা এক চিঠিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম তফিকুল ইসলাম ওরফে তফি। তিনি রাজশাহীর বাঘা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। তিনি পৌরসভার প্যানেল মেয়রও ছিলেন।
জানা গেছে, গত ৬ মার্চ বাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আগের কমিটি ভেঙে তফি সভাপতি হন।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি হতে গেলে এখন শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে স্নাতক বা সমমান। তফিকুলের সেই যোগ্যতা নেই। তার পরও তিনি বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়ে গিয়েছিলেন।
সভাপতি হওয়ার সময় তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সনদ জমা দেন। ১৯৯৯ সালে তিনি বিএ পাস করেছিলেন দাবি করে সনদটি দেন। সনদটির রোল নম্বর ২৬০৫১২ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ৬৫২২৬১। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, সনদটি জাল।
নথিপত্রে দেখা গেছে, চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ বাঘা উচ্চবিদ্যালয়ের চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন করে। এই কমিটিতে শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক মনোনীত হিসেবে সভাপতি হন বাঘা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তফিকুল ইসলাম।
এ বিষয়ে বাঘা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী দেওয়ান জানান, তফিকুল ইসলাম যেভাবে আমাদের তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ দিয়েছেন, সেভাবেই আমরা রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছি। এই সনদ জাল কি না, সেটা তখন জানতাম না। পরে ওয়েবসাইট থেকে চিঠি ডাউনলোড করে দেখছি যে তার সনদটি জাল ছিল।
জাল সনদে সভাপতি হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে বিএনপি নেতা তফিকুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক শামীম হাসান বলেন, ‘জাল সনদের ব্যাপারে অভিযোগ করতে হলে বোর্ডের অনুকূলে সাত হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফট করতে হয়। এ রকম ব্যাংক ড্রাফটসহ লিখিত অভিযোগ তফিকুলের সনদের ব্যাপারে এসেছিল। আমরা সেটা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দিয়ে তদন্ত করিয়েছি। এতে সনদটি জাল প্রমাণিত হয়েছে। এরপর প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।’