× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

শিক্ষার্থীরা শিখছে উৎপাদনমুখী শিক্ষা

অরণ্য ইমতিয়াজ

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১১:৫৭ এএম

মহিষমারা কলেজ প্রাঙ্গণে আবাদ করা হচ্ছে সবজি। প্রবা ফটো

মহিষমারা কলেজ প্রাঙ্গণে আবাদ করা হচ্ছে সবজি। প্রবা ফটো

প্রথম দৃষ্টিতে মনে হবেÑ এটি যেন কৃষিজমি। সবুজ ফসলে ভরে গেছে অনেকটা জায়গা। পাশেই চলছে মাটি প্রস্তুতের কাজ। সেখানেও সবজি চাষের আয়োজন। একটু এগিয়ে গেলে খানিকটা চমকে যেতে হয়। এটা আসলে আবাদি জমি, ফসলের মাঠ নয়, এটা কলেজের মাঠ। শিক্ষার্থীরা উদ্বুদ্ধ হয়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠের পাশাপাশি কলেজ মাঠের পাশে আরেকটি ফসলি মাঠ তৈরি করেছেন। তারা লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে উৎপাদনমুখী শিক্ষা গ্রহণ করছেন এবং তারই বাস্তবায়ন হিসেবে মাঠে চাষ করছেন বিভিন্ন ফসল। সেই ফসল তারা বাড়ি নিয়ে যেতে পারছেন আবার বিক্রি করার সুযোগও পাচ্ছেন। শুধু কলেজ আঙিনা নয়, এখান থেকে হাতে-কলমে উৎপাদনমুখী শিক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়ির পতিত জায়গায় চাষ করছেন ফসল। এসব কাজে সহযোগিতা করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করে চাকরি করাটাকেই জীবনের প্রধান লক্ষ্য বলে মনে করেন। তাদের অনেকেই নিজে কাজ করে স্বাবলম্বী হতে চান না। তাদের কাজ করার মতো মেধা ও শক্তি থাকলেও মনোবলের মারাত্মক অভাব। সেই অভাব দূর করে শিক্ষার্থীদের মনোবল জাগ্রত করতে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য তাদের লেখাপড়ার পাশাপাশি উৎপাদনমুখী শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার পাহাড়িয়া এলাকায় মহিষমারা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মো. ছানোয়ার হোসেন এমন উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি একজন আদর্শ কৃষক হিসেবে জাতীয় কৃষি পদক পেয়েছেন। তার বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের যদি লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ফসল উৎপাদনমুখী শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তাহলে বিপুল পরিমাণ জায়গা খাদ্য উৎপাদনের আওতায় আসবে। এতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীরাও স্বাবলম্বী হতে পারবেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে তারা আর বেকার থাকবেন না।

কলেজের শিক্ষার্থীরা কলেজ প্রাঙ্গণে সবজি চাষ করছেন। প্রবা ফটো

শুধু বিশ্বাস করলেই তো হবে না, তার বাস্তবায়ন করতে হবে। সেই বাস্তবায়নের দৃঢ়প্রত্যয় নিয়ে ২০১৯ সালে তিনি মহিষমারা কলেজে শুরু করেন উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রম। প্রথমে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়। তারা খুব আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে শিক্ষার্থীদের মোবাইল, ইন্টারনেট আসক্তি এবং এলোমেলো আড্ডা কমে আসবে। পরে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও আলোচনা করেন। প্রথমদিকে অনেক শিক্ষার্থী বিরক্ত প্রকাশ করেন। অল্প কিছু শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করেন উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রম। পরবর্তীতে কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থী উৎসাহী হয়ে এ কাজে সম্পৃক্ত হন। কলেজের এক সভায় রেজল্যুশন করে কলেজ আঙিনায় ৪০ শতাংশ জায়গা নির্ধারণ করা হয়। সেখানে প্লট করে নানা ধরনের সবজি চাষ করা হয়। স্থানীয় কৃষি বিভাগ এতে সহযোগিতা করে। এ কার্যক্রম দেখভাল করার জন্য কলেজের একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। 

কলেজ থেকে হাতে-কলমে শিখে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বাড়িতেও বিভিন্ন জাতের শাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করছেন। কলেজের নির্ধারিত প্লটে চাষ করা সবজি শিক্ষার্থীরা বাজারে বিক্রি করতে এবং বাড়িতেও নিতে পারছেন।

মহিষমারা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আ. রাজ্জাক জানান, উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিক ব্যয় কলেজ থেকে বহন করা হচ্ছে। তা ছাড়া প্রতিষ্ঠাতা মো. ছানোয়ার হোসেন ব্যক্তিগতভাবেও অনেক খরচ বহন করছেন। কলেজের দুই শতাধিক ছাত্রছাত্রী বিনোদনের মাধ্যমে এ কাজে অংশ নিয়েছেন। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা নিজেদের বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় আবাদ করছেন। এতে পরিবারে সবজির চাহিদা পূরণ হচ্ছে। 

উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক শহীদুল ইসলাম বলেন, অনেকেই আমাদের এই উদ্যোগ দেখতে এসে অবাক হয়েছেন, প্রশংসা করেছেন। ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি প্রতিনিধিদল এসে উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রম দেখে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পেরে খুশি শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, আগে অলস সময় কাটত। মোবাইল দেখে, আড্ডা দিয়েই বেশি সময় কাটত। এখন কাজের মধ্য দিয়ে অনেক ভালো সময় কাটছে। সপ্তাহের শনিবার কলেজের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকলেও চাষাবাদ কার্যক্রম চলে। সবাই মিলে কাজ করতে আনন্দ লাগে। প্রতি মাসে একবার কলেজ আঙিনায় দুপুরে পুষ্টিকর খিচুড়ি রান্না করা হয়। সবাই মিলে চাষাবাদ সংক্রান্ত কাজে সময় কেটে যায়।

উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রমকে শুধু মহিষমারা কলেজেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। এটি আস্তে আস্তে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কলেজ থেকে এক কিলোমিটার দূরে মধুপুর উপজেলার সুনামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে এর আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। 

উৎপাদনমুখী শিক্ষাকার্যক্রমের উদ্যোক্তা মো. ছানোয়ার হোসেন জানান, মধুপুর উপজেলার অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ কার্যক্রম চালু করার জন্য প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে। এতে এক ধরনের জনমত সৃষ্টি হচ্ছে। তারা সাড়া দিয়েছেন। সাধুবাদ জানিয়েছেন এ কার্যক্রমকে। ছানোয়ার হোসেন বিশ্বাস করেন, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এ কার্যক্রমের আওতায় এলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক যুবক-যুবতী বেকরত্ব দূর করে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।

তিনি বলেন, দেশে অর্থনৈতিক মুক্তির একমাত্র উপায় হচ্ছে কৃষির উন্নয়ন। কৃষিকে সম্মানজনক ও সমৃদ্ধিশালী পেশায় অধিষ্ঠিত করার জন্য শিক্ষাব্যবস্থায় কৃষিকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। বিশেষ করে অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে ৪০০ নম্বরের কৃষি বিষয় চালু করতে হবে। যার মধ্যে ২০০ নম্বর হবে বাস্তবভিত্তিক ব্যবহারিক। কৃষিই একমাত্র পেশা যার মাধ্যমে উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্য দিয়ে সব প্রাণীর মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। কৃষিপণ্য উৎপাদন, বিপণন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনের জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। কৃষির মূল শক্তি হলো উৎপাদন। উৎপাদনের এধারা অব্যাহত রাখতে হলে শিক্ষাব্যবস্থায় সংযোজন করতে হবে উৎপাদনমুখী শিক্ষা।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা