× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিলেট নগরীতে পানি সংকট চরমে

সিলেট অফিস

প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০২৫ ১১:০০ এএম

সিলেট নগরীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় অকেজো পানির ট্যাংক। প্রবা ফটো

সিলেট নগরীর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ায় অকেজো পানির ট্যাংক। প্রবা ফটো

সিলেট নগরীতে পানি সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়ার পাশাপাশি নগরের জনসংখ্যা ও পানির চাহিদা বৃদ্ধির ফলে এই সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বর্তমানে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নগরীর ৪২টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ১৩ কোটি লিটার পানির প্রয়োজন হলেও সিটি করপোরেশনের সরবরাহ সক্ষমতা মাত্র ৪ কোটি লিটার। যে কারণে নগরীতে চাহিদার শতকরা এক ভাগ পানিও সরবরাহ করতে পাড়ছে না সিসিক। ফলে নাগরিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিলেট নগরের জনসংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে পানির চাহিদাও। ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন বাড়ায় ভূগর্ভে পানি সংকট দেখা দিচ্ছে। অনেক এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানি সংকট বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রাকৃতিক উপায়ে পানির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক পানির উৎসের দিকে মনোযোগ না দিলে এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি সংকট আছে, এটা অস্বীকার করছে না সিটি করপোরেশন। কারণ উৎপাদন সক্ষমতা কম। তবু সক্ষমতা অনুযায়ী সমানভাবে পানি দিতে চেষ্টা করছে সিটি করপোরেশন। পানি সংকট মোকাবিলায় নতুন একটি প্লান্টও তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, ৪২টি ওয়ার্ডে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১৩ কোটি লিটার। অথচ সিসিক প্রতিদিন মাত্র ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে, যা মোট চাহিদার মাত্র ৩০ শতাংশ। ফলে প্রায় ১৮টি ওয়ার্ড এখনও পানি সরবরাহের বাইরে রয়েছে।

সিসিক জানায়, দৈনিক আট কোটি লিটার চাহিদার বিপরীতে সিটি করপোরেশন পানি সরবরাহ করছে ৪ কোটি লিটার। এ ছাড়া ৪২টি ওয়ার্ডে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১৩ কোটি লিটার। পুরাতন ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে, বাকি ৩টি ওয়ার্ড এবং সম্প্রসারিত ১৫টি ওয়ার্ডে এখনও পানির লাইন স্থাপন করা হয়নি। ফলে নতুন পুরাতন মিলিয়ে ১৮টি ওয়ার্ডে নাগরিকদের একমাত্র ভরসা নলকূপ বা বেসরকারি উৎসÑ যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অনির্ভরযোগ্য।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট নগরীর কুশিঘাট এলাকায় সিটি করপোরেশনের একমাত্র পানি শোধানাগার। সুরমা নদী থেকে পানি পরিশোধন করে বাসা-বাড়িতে সরবরাহ করে সিটি করপোরেশন। সেখানে দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ২ কোটি ৮০ লাখ লিটার। আর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের ৪৫টি গভীর নলকূপের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ কোটি ২০ লাখ লিটার। সব মিলিয়ে সিটি করপোরেশনের দৈনিক পানির উৎপাদন ক্ষমতা ৪ কোটি লিটার। বর্তমানে ৪২টি ওয়ার্ডে এই সাড়ে ৩ থেকে ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। 

সিসিক সূত্র জানায়, পানি সংকট মোকাবিলায় নতুন পানি শোধানাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চেঙেরখাল এলাকায় ৫ কোটি লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন প্লান্ট নির্মাণের প্রস্তাব বর্তমানে পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। সর্বশেষ প্রকল্পটি প্রি-একনেকে পাস হলেও একনেকে পাসের অপেক্ষায়। এটি বাস্তবায়িত হলে ৪২টি ওয়ার্ডের পানি সমস্যা শতভাগ সমাধান না হলেও প্রায় ৭৫ ভাগ পানির জোগান দিতে পারবে সিটি করপোরেশন। তারপরও চাহিদার বিপরীতে ঘাটতি থাকবে সাড়ে ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি লিটার।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিসবাহ উদ্দিন বলেন, নগরীতে জনসংখ্যা বাড়ায় ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বেড়েছে। এজন্য পানির চাহিদাও বেড়েছে, ফলে ভূগর্ভস্থ থেকে বেশি পানি উত্তোলন হচ্ছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর কমে গেলে পানি সংগ্রহে সমস্যা হয় এবং দূষণের ঝুঁকিও বাড়ে। একমাত্র উপায় হলো প্রাকৃতিক পানি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়া।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, চাহিদার তুলনায় আমাদের উৎপাদন সক্ষমতা কম, তবে সক্ষমতা অনুযায়ী সুষম বণ্টন করে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে পানি সংকটের আরেক কারণ ঘনঘন লোডশেডিং। যে সময়টাতে সিটি করপোরেশন পানি দেয়, দেখা গেছে অনেক সময় সেসব এলাকায় লোডশেডিং চলছে। এ কারণে তারা পানি সংগ্রহ পারেন না। 

তিনি আরও জানান, রিজার্ভ ট্যাংকি থাকলে লোডশেডিং থাকলেও পানি সংকট হবে না। সিটি করপোরেশন পানি ছাড়লে রিজার্ভ ট্যাংকিতে পানি চলে যাবে। পরবর্তীতে রিজার্ভ ট্যাংকি থেকে মোটর ছেড়ে পানি তুলতে পারবে নাগরিকরা। 

প্রসঙ্গত ১৮৭৮ সালে পৌনে দুই বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে সিলেট পৌরসভা গঠনের পর ২০০২ সালে এটি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হয়। তখন থেকে নগরের পানির পরিধি বাড়তে বাড়তে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৭৯ বর্গকিলোমিটারে। পাশাপাশি ২৭ ওয়ার্ড থেকে ৪২ ওয়ার্ডে উন্নীত করাসহ জনসংখ্যাও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ। নগরায়নের এই দ্রুত গতির সঙ্গে পানির অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা