খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৮:১১ পিএম
অতি বৃষ্টির কারণে বিল ডাকাতিয়ার পানি বৃদ্ধি পেয়ে জলাবদ্ধতায়ি ভোগান্তি। প্রবা ফটো
অতি বৃষ্টির কারণে খুলনা-যশোর অঞ্চলের জলাবদ্ধতা রোধে প্রশাসন সরব হয়েছে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিল ডাকাতিয়া ও আশপাশের এলাকাকে বাঁচাতে দিন-রাত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেচ পাম্প দিয়ে পানি অপসারণ চলছে। তবুও অতিবৃষ্টির কারণে পিছিয়ে পড়ছে কর্তৃপক্ষ। ডুবে গেছে খাল, বিল, বসতবাড়ি ও সবজিক্ষেত।
প্রায় ১৪ হাজার ৩০০ হেক্টর আয়তনের বিল ডাকাতিয়ার সঙ্গে রয়েছে বিল বরুনা, ভায়না, মধুগ্রাম, তাওয়ালিয়া, খুকশিয়া, শিংগা, মাধবকাটি, খড়িয়া ও মির্জাপুরসহ অসংখ্য বিল, যা খুলনা ও যশোরের হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস। ১৯৬০-এর দশকে পোল্ডার নির্মাণের পর নদীতে পলি জমে জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। হামকুড়া ও ভদ্রা নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার পর বিকল্প হিসেবে শোলমারী স্লুইজ গেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন শুরু হলেও পলি জমে জলাবদ্ধতা স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রঘুনাথপুর ও রংপুর ইউনিয়নের অন্তত ৪৫টি গ্রাম প্রতিবছর পানিতে ডুবে যায়। এতে ফসল উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে, অনেকের বসতবাড়িও হুমকির মুখে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, পাম্প ও কপাট দিয়ে পানি সরানো হলেও সীমিত সক্ষমতার কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না।
শোলমারী স্লুইজ এলাকায় এখন দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সেচ পাম্প ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের চারটি স্কেভেটর দিয়ে পলি অপসারণ চলছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, পাম্পের সংখ্যা বাড়ানো, খাল ও সংযোগ পথ উন্মুক্ত রাখা এবং স্লুইজ গেট পুরোপুরি খুলে পানি নিষ্কাশনের পথ সুগম করা জরুরি।
হামকুড়া নদী সংগ্রাম কমিটির সভাপতি শেখ সেলিম আকতার স্বপন বলেন, নদীর নব্যতা বজায় না রাখলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটবে।
সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা এ এম কামরুল ইসলাম বলেন, সব বিল ও খালের সংযোগ রক্ষা করে নদীতে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে।
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন জানান, সরকারি সহায়তায় দুটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্প বসানো হয়েছে এবং পলি অপসারণ অব্যাহত আছে। আরও যন্ত্রপাতি আনার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছে।
খুলনা পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, নদীর নব্যতা রক্ষা ও জল নিষ্কাশনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।