নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৭:৫৪ পিএম
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শেবাচিম) সিন্ডিকেট ভেঙে অনিয়ম, দুর্নীতি বন্ধসহ একাধিক দাবিতে আমরণ অনশনে বসা শিক্ষার্থী তাহমিদ ইসলাম দাইয়ান ও সাফিন মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের স্যালাইন ও অক্সিজেন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় হাসপাতালের প্রধান গেটের সামনে আমরণ অনশনে বসে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের এই দুই শিক্ষার্থী। এবার তারা এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে।
হাসপাতালের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে না আসা পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না বলে জানিয়েছে অনশনকারীরা।
অনশনরত দাইয়ান ও সাফিনের খোঁজ-খবর নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সকালে হাসপাতাল পরিচালক নিজে তাদের খোঁজ-খবর নেন।
এদিকে অনশনকারীদের কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দল এবং হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজনরা। তারাও এ হাসপাতালের অনিয়ম এবং দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান।
অনশনকারীদের দাবিগুলো হলো- হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবিলম্বে অপসারণ করতে হবে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, ট্রলি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণসহ সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে, বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের দালালদের মেডিকেল এলাকায় নিষিদ্ধ করতে হবে, রোগীর সেবার মান উন্নয়নে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন ও সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে, হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ ও যন্ত্রপাতি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং স্বাস্থ্যখাতে সংস্কার আন্দোলনকারীদের সকল দাবি মেনে নিতে হবে।
তাদের দাবি, স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বরিশালে এসে হাসপাতাল পরিদর্শন এবং অভিযোগ তদন্ত করে দাবিগুলো বাস্তবায়নে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় অনশন ভাঙবেন না অনশনকারীরা।
এর আগে শেবাচিম হাসপাতালসহ সারাদেশে স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের দাবিতে গত ১৫ দিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে ছাত্র-জনতা। এর মধ্যে গত ছয়দিন নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বরিশাল-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে তারা। আজ থেকে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে লাগাতার অবরোধ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শহরের প্রাণকেন্দ্র সদর রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে মডেল স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীরা।
সাধারণ ছাত্র-জনতার গত ১৬ দিন ধরে চলমান আন্দোলনের গুরুত্ব না দেওয়া এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টার বরিশালে না আসা এই অঞ্চলের মানুষের প্রতি চরম অবহেলা এবং বৈষম্য মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া মহিউদ্দিন রনি।
তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি যাই হোক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বরিশালে এসে স্বাস্থ্যখাতে সংস্কারের উদ্যোগ না দেওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’