রংপুর অফিস
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৪৬ পিএম
উজানের পাহাড়ি ঢলে রংপুরে বেড়েছে তিস্তা নদীর পানি। এতে করে তিস্তা নদী বেষ্টিত রংপুরের তিন উপজেলার নিম্নাঞ্চল, চর ও দ্বীপচরের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এদিকে তিস্তা নদী পানি বৃদ্ধিতে গঙ্গাচড়া সেতুরক্ষা বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার জায়গার ব্লক ধসে গেছে। এতে করে ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে সেতু ও রংপুর-লালমনিরহাটের যোগাযোগের সড়কটি।
ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে বেশ কয়েকদিন ধরে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। গত এক সপ্তাহে কয়েকবার পানি বিপদসীমা অতিক্রমও করেছে।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) সকাল ৯টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ২ সেন্টিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। আগামী ২ দিন তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিসহ বিপদসীমা অতিক্রম হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, আগামী দু’দিন তিস্তাসহ উত্তরাঞ্চলের নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এ সময় তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এ তথ্য নদী এলাকার মানুষসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে।
এদিকে তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে গঙ্গাচড়া উপজেলার লক্ষ্মীটারী তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধের ৬০ মিটার ব্লক ধসে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুরক্ষা বাঁধটি গত বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও রক্ষণাবেক্ষণে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এ বছর তিস্তা নদীর পানি সরাসরি বাঁধের সেই দুর্বল জায়গায় আঘাত হানায় ব্লক ধসে যাওয়া স্থানে প্রায় ৭০ ফুট গর্ত তৈরি হয়েছে। প্রতিনিয়ত ব্লকগুলো একটু একটু করে নদীতে নেমে যাচ্ছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের চর শংকরদহের বাসিন্দা দুলালী বেগম বলেন, নদীর পানি বাড়ার কারণে তিস্তা সেতুরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে তিস্তা সেতুটিও কোনো এক সময় পানির তোড়ে ভেঙে যেতে পারে।
লহ্মীটারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী বলেন, গত বছরই বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু তখন তারা পদক্ষেপ নেয়নি বলে আজ বাঁধ বেশি ভেঙে গেছে। সামনে বৃষ্টি ও ভারত থেকে ছেড়ে আসা পানিতে বাঁধের বড় ক্ষতি হতে পারে। এতে করে তিস্তা সেতু, যোগাযোগের সড়ক ও শংকরদহের গ্রামটি বিলীনের হুমকিতে পড়বে। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাঁধটি সংস্কার করা উচিত।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, মহিপুরে পানি বৃদ্ধি ও কমে যাওয়ার সাথে সাথে তিস্তা সেতুর পশ্চিম অংশে বাঁধটিতে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা এলজিইডিকে বিষয়টি জানিয়েছি। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। আশা করছি, দ্রুতই বাঁধটি মেরামতের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।