এমএ মামুন, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৫ ১৫:০৪ পিএম
দেবহাটা উপজেলায় মৎস্য ঘেরের ভেঁড়িতে পতিত জমি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে তরমুজ চাষ। প্রবা ফটো
ঘেরের পানিতে ছুটে বেড়াচ্ছে নানা প্রজাতির মাছ, আর পানির ওপর মাচায় ঝুলছে শত শত তরমুজ। দূর থেকে মনে হয় লাউ বা কুমড়া, কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায়, নাইলনের ব্যাগে ঝুলছে তরমুজ। মন ভরানো এই দৃশ্য এখন বাস্তব দেবহাটা উপজেলার গ্রামীণ চাষাবাদে। অফ সিজনের তরমুজ চাষে সাড়া ফেলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা, অল্প খরচে এই চাষ করে ভালো লাভ পাচ্ছেন তারা।
মৎস্য ঘেরের ভেঁড়িতে পতিত জমি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন অনেকের জন্য সফলতার গল্প। উপজেলা কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর প্রায় ৫০ জন কৃষক যুক্ত হয়েছেন অফ সিজন তরমুজ চাষে। আলাদা জমির প্রয়োজন নেই, সহজেই ঘেরের ভেড়িতে চাষ করা যায়। ইতোমধ্যে ৩টি প্রদর্শনী প্লটে এসেছে বাম্পার ফলন। কৃষি অধিদপ্তর ৫০ জন কৃষকের মাঝে উন্নত জাতের সুপ্রিম হানি, তৃপ্তি, ব্ল্যাক বেবি, সুগারকুইন ও বাংলা লিংক জাতের বীজ সরবরাহ করেছে। প্রতি বিঘায় ১০০-১২০ গ্রাম বীজ রোপণ করা হয়। বর্তমানে এই তরমুজ বাজারে কেজিপ্রতি ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলার টিকেট গ্রামের তরমুজ চাষি বিশ্বনাথ টাপালী জানান, লোনা পানির এলাকায় টিউবওয়েল থেকে পানি এনে নিয়মিত পরিচর্যা ও রোগ-পোকা দমন করতে হয়। এই কষ্টের ফল মিলছে হাতে, প্রথম চালানেই ৪০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন, এখনও দুই দফা ফলন বাকি। ৬ বিঘা জমির ভেড়িতে লাগানো তরমুজ বিক্রি করে সারা বছরের জমির লিজের টাকা উঠে যাবে বলে আশা করছেন।
কৃষক আবুল কাশেমের তরমুজ দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমন সুস্বাদু। বাজারে এর চাহিদা অনেক, এবছর প্রায় ২ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন তিনি। একইভাবে কৃষক আব্দুল খালেক প্রথম চালানে ২০ হাজার টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন, মৌসুম শেষে ২ লাখ টাকার বেশি বিক্রির সম্ভাবনা দেখছেন।
উপ সহকারী কৃষি অফিসার ইউনুস আলী জানান, অফ সিজনের তরমুজ চাষ লাউ বা কুমড়ার মতোই। খরচ কম, তবে যত্ন বেশি লাগে। ভালো দাম ও সহজ চাষের কারণে আগ্রহ বাড়ছে।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তফা মোস্তাক আহম্মেদ জানান, নোনাজলে সোনার ফসলের সন্ধানে দেবহাটায় এখন ঘেরের পতিত জমি কাজে লাগছে।
দেবহাটা উপজেলা কৃষি অফিসার শওকত ওসমান জানান, যেখানে আগে মাছের ঘেরের ভেঁড়ি পতিত পড়ে থাকত, সেখানে আমরা সবজি ও অসময়ের তরমুজ চাষ শুরু করেছি। বীজ, সার ও নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে কৃষকদের সহায়তা করছি। এতে ফসলের আবাদ বেড়েছে, অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।