রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ২০:৩৫ পিএম
আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৫ ২০:৪০ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর ইউনিয়নের উত্তর ফতেহপুর গ্রামে জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সঞ্জয় চন্দ্র দে (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার পর রাতের আঁধারে তার লাশদাহের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় সন্দেহভাজন ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তাররা হলেনÑ স্বপন চন্দ্র দে, রিপন দে, রাজন দে, শীতল কুমার দে, অজয় কুমার দে ও রাসেল চৌকিদার।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১০ আগস্ট) বিকালে সঞ্জয়ের চাচাতো ভাই রিপন দে ও তার সহযোগীরা তাকে ব্যাপক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখে। ঘটনার সময় সঞ্জয়ের মা ও স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান।
পরে রাতের অন্ধকারে দ্রুত লাশ দাহের প্রস্তুতি নেন অপরাধীরা। খবর পেয়ে স্থানীয়রা সঞ্জয়ের স্ত্রী শান্তনা রানীকে জানালে তিনি থানায় খবর দেন। রাত ১০টার দিকে রামগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দাহ বন্ধ করে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, লাশের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
স্থানীয় দফাদার বলেন, সঞ্জয়ের সঙ্গে তার চাচাতো ভাইদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ ছাড়া তার এক ভাবির কাছ থেকে এক চৌকিদার সম্পত্তি কিনে নিলে সেটি নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
এ বিষয়ে সঞ্জয়ের চাচাতো ভাই রিপন দে দাবি করেন, কিডনি, লিভার ও ডায়াবেটিসসহ নানা রোগে অসুস্থ হয়ে সঞ্জয় মারা গেছে। আর কিছু আমরা জানি না।
নিহতের স্ত্রী শান্তনা রানী বলেন, কয়েক মাস আগে বাড়িতে ঝামেলা হওয়ায় আমাকে বাবার বাড়িতে রেখে যায় সঞ্জয়। কয়েকদিন আগে আমার স্বামীকে ব্যাপক মারধর করে, এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না। আজ শুনি তিনি মারা গেছেন। আমাকে না জানিয়ে দ্রুত লাশ দাহের চেষ্টা করেছে তারা। আমি আমার স্বামীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।
রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল বারী জানান, তার স্ত্রী থানায় ফোন করার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন ৬ জনকে গ্রেপ্তারর করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে।