খুলনা অফিস
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:৩৬ পিএম
আটক মানিক হাওলাদার। প্রবা ফটো
খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আদালত চত্বরে উপস্থিত সেনাবাহিনীর সদস্যরা তিনটি ধারালো চাপাতিসহ মানিক হাওলাদার নামের এক যুবককে আটক করে। ঘটনার পর পরই আদালত এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। আটক মানিক হাওলাদারের বাড়ি খুলনার সোনাডাঙ্গা থানাধীন ছোট বয়রা এলাকার হাসানবাগে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের আগে হঠাৎ আদালত প্রাঙ্গণে কয়েকজন যুবকের তৎপরতা নজরে আসে। এ সময় মানিককে কয়েকজন ধরে রেখেছিল। পরে সে উপস্থিত কোর্ট পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলে, পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। কিন্তু অল্পসময়ের মধ্যেই সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি আদালতে এসে পৌঁছে। তখন সেনা সদস্যরা মানিককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে তার পিঠে ঝোলানো ব্যাগ তল্লাশি করে। সেখান থেকে উদ্ধার হয় তিনটি ধারালো চাপাতি।
সেনাবাহিনীর সদস্যদের বরাত দিয়ে কোর্ট প্রসিকিউশন এডিসি মো. হুমায়ুন কবির জানান, মানিকের সঙ্গে আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী ছিল। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীকে আক্রমণের জন্যই মানিক ও তার সহযোগীরা আদালত এলাকায় অবস্থান করছিল।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র বলছে, মানিক খুলনার কুখ্যাত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘গ্রেনেড বাবু’র নেতৃত্বাধীন ‘বি’ কোম্পানির সক্রিয় সদস্য। সোমবার আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিল প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং ‘পলাশ গ্রুপ’-এর একাধিক সদস্য। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিয়েই মানিক আদালত চত্বরে প্রবেশ করেছিল।
মানিক হাওলাদারের বিরুদ্ধে খুলনার দৌলতপুর ও আড়ংঘাটা থানায় চুরির দুটি মামলা রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তার অপরাধপ্রবণতা শুধুমাত্র চুরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়- সে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে যুক্ত।
ঘটনার পর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও প্রবেশ পথে তল্লাশি বাড়ানো হয়েছে।