গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১৬:২৯ পিএম
অভিযুক্ত শিক্ষক মিরাজ হোসেন। প্রবা ফটো
গোপালগঞ্জে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (১০ আগস্ট) রাতে ওই শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে শিক্ষক মো. মিরাজ হোসেনকে (৪০) আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্ত শিক্ষক মিরাজ হোসেন সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়ন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক।
রবিবার রাতে মামলাটি রেকর্ড করা হলেও সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন।
ওসি মামুন বলেন, ওই শিক্ষার্থীর জবানবন্দী রেকর্ড করার জন্য সোমবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে গোপালগঞ্জ সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোমানা রোজী ২২ ধারায় স্কুলছাত্রীর জবানবন্দী রেকর্ড করেন। মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তারে রবিবার রাতে দুই দফা অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু গ্রেপ্তার করা যায়নি। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে রবিবার দুপুরে শিক্ষক মিরাজ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া এ ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন স্কুল ম্যানেজিং (অ্যাডহক) কমিটির সভাপতি ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সেলিম তালুকদার। তদন্ত কমিটির প্রধান হয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজর অরুণচন্দ্র মণ্ডল। কমিটির অন্য দুজন হলেন স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মফিজুর রহমান ও স্কুলের সহকারী শিক্ষক নাজভিন জাহান। কমিটিকে আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক কমলেশ বিশ্বাস বলেন, গত ৬ আগস্ট সপ্তম শ্রেণির ওই ছাত্রীর জন্মদিন ছিল। স্কুল ছুটির পর বিকাল সাড়ে চারটা থেকে পৌনে পাঁচটার দিকে বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে জন্মদিনের অনুষ্ঠান করেন ওই শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষে ওই শিক্ষার্থী ভুল করে সেখানে একটি ডায়েরি রেখে চলে আসে। পরে সে ডায়েরি আনতে সেখানে যায়। তখন শিক্ষক মিরাজ হোসেন তাকে একা পেয়ে তার সঙ্গে অশ্লীল ও কুরুচিপূর্ণ আচরণ করেন। এরপর ওই শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে পরিত্যক্ত ভবনের ওই রুম থেকে বেরিয়ে আসে। সহপাঠীসহ অন্য শিক্ষার্থীদের বিষয়টি সে জানায়। এ ঘটনায় পরের দিন ৭ আগস্ট ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীসহ অর্ধ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। এ ব্যাপারে আমি শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। তখন সে আমার কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।
এর আগে ওই শিক্ষক ২০১৯ সালে স্কুলে একই ধরনের ঘটনা ঘটান। তখন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ওই ঘটনায় একমাস জেল খেটেছেন। পরে আপস মীমাংসা করে তিনি মামলা থেকে রক্ষা পান।
রবিবার সকাল দশটায় স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ওই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে স্কুল ক্যাম্পাসে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এ সময় তারা শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করে। স্লোগানে স্লোগানে শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গন উত্তাল করে তোলে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মিরাজ হোসেন ধর্ষণচেষ্টার কথা অস্বীকার করে বলেন, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছাত্রীর কানের কাছে মুখ নিয়ে ‘হ্যাপি বার্থডে’ বলি। ২০১৯ সালেও এক ছাত্রীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ নেই। তখন প্রতিপক্ষ আমাকে হয়রানি করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে দিয়ে মামলা দিয়েছিল। তখন আমি প্রায় এক মাস জেলে ছিলাম।