মেহেদী হাসান রনি, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৫ ১১:০৪ এএম
ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। রবিবার তোলা। প্রবা ফটো
পদ্মায় এখন ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিনই বাড়ছে নদীর পানি। আর এ কারণেই তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ফেরিঘাটগুলো। তবে দায়সারা কথা বলছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাট ও মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ঘাট। এ নৌরুট ব্যবহার করেই প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ নদী পারাপার হয়ে রাজধানীর ঢাকায় যায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, জেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাটে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। যেভাবে রাতে ও দিনে নদীর পাড় এবং ঘাটের কোল ঘেঁষে ভাঙছে, এতে ঘাটগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বেশি ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট। ফেরিঘাট সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়ার প্রান্ত এলাকায় ৭টি ঘাট থাকার কথা থাকলেও সচল রয়েছে মাত্র ৩টি। সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ঘাট সচল। ৬ নম্বর ঘাট থাকলেও এখনও সচল করা যায়নি এবং এ ঘাটটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। তবে বসানো ৬ নম্বর পন্টুনের আশপাশেও চলছে তীব্র ভাঙন। ঝুঁকিতে রয়েছে বন্ধ এ ঘাটটিও। এর আগে ১, ২, ৫ নম্বর ঘাট ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে।
বর্তমান মৌসুমে পদ্মা নদীতে প্রতিদিনই পানি বাড়ায় একদিকে যেমন ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে দৌলতদিয়ার প্রান্ত এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ায় হুমকির রয়েছে ঘাটগুলো। এতে ভোগান্তি বাড়ছে। পদ্মায় পানি বাড়ায় আগের চেয়ে এ নৌরুটে ফেরি চলাচলে দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পারাপারত যাত্রী ও চালকদের।
তীব্র ভাঙনে ঘাটগুলোয় প্রচণ্ড ঝুঁকির মুখে আছে। এতে চরম দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তায় পড়ছেন নদীপারের হাজার হাজার বাসিন্দাসহ সংশ্লিষ্ট ফেরিঘাট কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া পানি বাড়ায় ফেরিতে গাড়িগুলো লোড-আনলোডে বেগ পোহাতে হচ্ছে চালকদের। তবে প্রতি বছরই এমন চিত্র দেখা গেলেও ভাঙনরোধে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। প্রতি বছর বর্ষাকাল এলেই দেখা যায় নদী ভাঙন। ভাঙতে থাকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটসহ অন্যান্য পদ্মা পাড়ের মানুষের বাড়িঘর। কিন্তু এর নেই কোনো স্থায়ী সমাধান! প্রতি বছর যখন পদ্মা ভাঙন হয় তখন বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফালানো হয়। বছরের পর বছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে নদী খনন করেও নদীর ভাঙনরোধ করা যাচ্ছে না।
পদ্মার ভাঙনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গোয়ালন্দ ফেরিঘাটের ভাঙন সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। বারবার ভাঙন দেখা দিলেও ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড বা বিআইডব্লিউটিএ পক্ষ থেকে ভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে নাÑ এমন অভিযোগ বিশেষজ্ঞসহ স্থানীয়দের।
দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার স্থানীয়রা জানান, ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। প্রতিবার ভাঙনরোধে কোটি কোটি কোটি টাকা খরচ করার অভ্যাস ছাড়তে হবে। ঘাট যাতে না ভাঙে তার জন্য স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটতে হবে। তারা আরও জানান, বিগত দিনে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ফেরিঘাটের ভাঙনরোধের স্থায়ী সমাধান করা হবে। কিন্তু আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা আছের বলেন, নদীতে পানি বাড়ার পর থেকেই ৪ নম্বর ফেরিঘাট ভাঙছে। এখন তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। জানা যায়, ২০১৬ সাল থেকে প্রতি বছরই ফেরি ঘাটগুলো ভাঙছে এবং ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছরই ভাঙনরোধে দায়সারা কাজ করা হয়। এ বছর ভাঙনরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকাটা ভাঙনকবলিত। ঘাটের আশপাশে ভাঙন শুরু হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা ইউএনও নাহিদুর রহমান বলেন, ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেখানে আমরা পরিদর্শন করেছি। একই সঙ্গে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত আছে। ফেরি সচল রাখার স্বার্থে যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়া দরকার তা করা হবে।