ইসমাইল মাহমুদ, মৌলভীবাজার
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৮:২২ পিএম
মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ও মোস্তফাপুর ইউনিয়নজুড়ে বিস্তৃত বর্ষিজোড়া ইকোপার্ক দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে অরক্ষিত ও অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০০৬ সালের জুলাই মাসে সরকার ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা দিলেও কার্যত এটি এখন পরিত্যক্ত। বর্ষিজোড়ায় এক সময় হাজার হাজার পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকলেও বর্তমানে এটি পর্যটকশূন্য। অথচ এই পার্কেই ছিল অসংখ্য উন্নয়নমূলক স্থাপনাÑ ইকো কটেজ, পিকনিক স্পট, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ফুট ট্রেইলসহ নানা পরিবেশবান্ধব আয়োজন।
৮৮৭ একর আয়তনের বর্ষিজোড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলটি প্রথম ঘোষণা করা হয় ১৯১৬ সালে। এখানে রয়েছে শাল, সেগুন, গর্জন, লোহাকাঠসহ বহু মূল্যবান বৃক্ষ এবং বন্যপ্রাণীর বিশাল সম্ভার। এক সময় এই পার্কে চিতা বাঘ, উল্লুক, মায়া হরিণের উপস্থিতিও ছিল বলে জানা যায়। পরিত্যক্ত ইকোপার্কটির রক্ষণাবেক্ষণে দুইজন বন প্রহরী থাকলেও তা রয়েছে নামে মাত্র। কিন্তু বর্তমানে বনটি কার্যত অভিভাবকহীন। গাছচোরদের অবাধ বিচরণে প্রতিদিনই হারাচ্ছে বনভূমির ঘনত্ব।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ সূত্র জানা গেছে, মৌলভীবাজার শহর থেকে মাত্র ২ কিলোমিটার পূর্বে ৭ নম্বর চাঁদনীঘাট ইউনিয়ন এবং ১১ নম্বর মোস্তফাপুর ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তৃত বর্ষিজোড়া মৌজায় অবস্থিত সংরক্ষিত এ বনটি বিভিন্ন ধরনের গাছ ও পাখির অভয়ারণ্য ছিল। বনটিতে চিতা বাঘ, উল্লুক ও মায়া হরিণ ছিল। এগুলো এখন বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সরকার এ বনটিকে ২০০৬ সালের জুলাই মাসে ইকোপার্ক ঘোষণা করে। ওই বছরই সোয়া দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নানা উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদন করা হয়। উল্লেখযোগ্য তেমন কোনো উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। এটি কার্যত পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তবে বর্তমানে এটির উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বনের অভ্যন্তর থেকে গাছ চুরির ঘটনায় একাধিক মামলা হলেও আলোর মুখ দেখেনি মামলাগুলো। তবে গাছ চুরির মামলাগুলো গুরুত্ব সহকারে দেখছে বন বিভাগ। মামলাগুলো নিষ্পত্তি হতে আরও ৪-৫ বছর সময় লাগতে পারে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, পার্কটির প্রধান গেট তালাবদ্ধ, অভ্যন্তরের স্থাপনাগুলো ভগ্নদশায়। কটেজগুলো পরিণত হয়েছে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলে। বন প্রহরীরা ন্যূনতম নিরাপত্তা সুবিধা ছাড়াই অবস্থান করছেন একটি জরাজীর্ণ ঘরে। পার্কটি হয়ে যাতায়াত করলেও সন্ধ্যার পর বখাটে ও মাদকসেবীদের উৎপাতের কারণে সাধারণ মানুষ সে পথ এড়িয়ে চলেন।
বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্ষিজোড়া ইকোপার্কটিতে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ ইকোপার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে একটি প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সংস্কার কাজ শুরু হবে।