রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৭:২৯ পিএম
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পুলিশের এএসআই পরিচয়ে শত বছরের পুরনো একটি চলাচলের রাস্তা কেটে দিয়েছেন ইউসুফ নামের এক ব্যক্তি। এতে দক্ষিণ-পূর্ব সেকান্দার এলাকার অন্তত ১০টি পরিবারের শতাধিক বাসিন্দা চলাচলের একমাত্র রাস্তা হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
রবিবার (১০ আগস্ট) সকালে ভুক্তভোগী ফারুক ও নেজাম অভিযোগ করে বলেন, এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ নেয়নি পুলিশ। অন্যদিকে, ঘটনাটি সম্পর্কে কেউ জানায়নি বলে দাবি করেছেন ওসি মো. কবির হোসেন।
বৃহস্পতিবার (৮ আগস্ট) সকালে চর আলগী ইউনিয়নের আশ্রাব আলী মোতাগো বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ইউসুফ চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় কর্মরত এএসআই এবং স্থানীয় নাজমুল হুদার ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানান, অভিযুক্ত ইউসুফ চট্রগ্রাম হালিশহর থানায় কর্মরত আছেন। বুধবার ছুটিতে বাড়িতে এসে কাউকে কোনোকিছু না বলে হঠাৎ তাদের ১০ পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি কেটে দেন। এ সময় রাস্তা ব্যবহারকারী পরিবারগুলো বাধা দিলে ইউসুফ ও তার পরিবারের লোকজন মিলে ভুক্তভোগীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে বেধড়ক মারধর করে। হামলায় ফারুক, নাজমা বেগমসহ ৫ জন আহত হন। তারা আরও জানায়, দারোগা ইউসুফ আমাদের চাচাতো ভাই হয়। আমরা একই পরিবারের লোক। আশ্রাব আলী মতাগো বাড়ি নামের এ বাড়িটি অনেক পুরনো। এখন বেশ কয়েকটি বাড়িতে ভাগ হয়ে বর্তমানে সেখানে আটটি বাড়ির শ’খানেক লোকের বসবাস। বাড়িতে বসবাসকারী লোকজনের চলাচলের রাস্তাটি শত বছরের পুরনো। ইউসুফ তার ‘দারোগার’ ক্ষমতা দেখাতে গিয়ে গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার সময় তার সহোদর ভাই মিলাদ ও পরিবারের লোকজন নিয়ে রাস্তাটি কেটে দেয়। এতে আমরা এ রাস্তা ব্যবহার ও চলাচলকারীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়ি। রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এএসআই ইউসুফ রাস্তাটি কেটে ফেলেন ব্যক্তি স্বার্থে। যদিও এটি একটি প্রচলিত জনসাধারণের রাস্তা এবং দীর্ঘদিন এলাকাবাসী এ রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। ভুক্তভোগীরা জানান, আমাদের যাতায়াতের আর কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। স্কুলে যাওয়া থেকে শুরু করে বাজার, চিকিৎসা সবকিছুতেই এখন দুর্ভোগে আছি।
এ বিষয়ে এএসআই ইউসুফের কাছে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনে ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন। রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, দু’পক্ষের কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।