ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন
পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৫ ১৪:০৮ পিএম
হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়। প্রবা ফটো
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের ২০ জন শিক্ষক-কর্মচারী বিদ্যালয় পরিদর্শক, শিক্ষা বোর্ড যশোর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অসদাচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বোর্ড কর্তৃপক্ষ স্থানীয় ড. মো. মোকাররম হোসেনকে সভাপতি মনোনীত করেন। যদিও বিদ্যালয় থেকে প্রেরিত ৩ জনের মধ্যে তার নাম ছিল না। দায়িত্ব পেয়ে সভাপতি কোনো এজেন্ডা ছাড়াই গত ২৫ মে বিদ্যালয়ে এসে মিটিং করেন। তাতে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে গত ২৩ জুন আবার একইভাবে সভা করার সিদ্ধান্ত নিলে কোনো সদস্য উপস্থিত না থাকায় সভা হয়নি।
এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি একক ক্ষমতা বলে স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান, সহকারী শিক্ষক প্রকাশ ঘোষ ও অফিস সহকারী সুভাষ মন্ডলকে সাময়িক বহিষ্কার করেন। শিক্ষক সুরঞ্জনা রায়, অনিশ রঞ্জন চক্রবর্তী ও সবুজ সরদারকে শো’কজ করেন।
এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ১৩নং ক্রমিকে থাকা সহকারী শিক্ষিকা নাজমুন্নাহারকে প্রতিষ্ঠানের চলতি দায়িত্ব প্রদান করেন।এদিকে পদত্যাগকৃত প্রধান শিক্ষককে নিয়ে বিদ্যালয়ের নামে ব্যাংকে একাউন্ট অপারেটর পরিবর্তন করেন। জানতে পেরে অভিযোগ দিয়ে অন্যান্য শিক্ষকরা তা বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপরোক্ত বিষয় নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলন করছেন। যার মধ্যে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা, ক্লাস বর্জন, মানববন্ধনসহ প্রতিবাদ সভা সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
বহিষ্কার হওয়া সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, বর্তমান সভাপতির বন্ধু যশোর বোর্ডের আইএস কামরুজ্জামান। তিনি তাকে সভাপতি বানিয়েছেন। তার ক্ষমতা বলে তিনি যাইচ্ছেতাই করছেন।
সভাপতি ড. মোকাররম হোসেন বলেন, আমি যেটা করেছি আইনগতভাবে করেছি। আমার বিরুদ্ধে বোর্ডে অভিযোগ করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটেই আমি মেনে নেব। বিদ্যালয়ের কেউ আমার কথা শুনছে না।
বোর্ড আইএস কামরুজ্জামানের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে তাকে না পাওয়ায় তার মন্তব্য দেওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ শাহজাহান আলী বলেন, বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। আশা করি, দ্রুত সমাস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহেরা নাজনীন জানান, সভাপতি সাহেব কীভাবে কি করছেন বিষয়টি তিনিই সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারবেন। তবে, দ্রুত সমাস্যা সমাধান করে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, সভাপতির হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে প্রায় এক মাস ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ কেলেঙ্কারিসহ বিভিন্ন কারণে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ হয়। বিষয়টি জানতে পেরে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। বর্তমান সভাপতি তার পক্ষ নিয়ে এসব হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।